কায়েদে আযম নন্দিনী দিনা ওয়াদিয়া আর নেই
প্রথম পাতা » ফিচার » কায়েদে আযম নন্দিনী দিনা ওয়াদিয়া আর নেই


শনিবার ● ৪ নভেম্বর ২০১৭

 ফাইল ছবি

বঙ্গ-নিউজঃপাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মুহম্মদ আলী জিন্নাহ’র একমাত্র সন্তান দিনা ওয়াদিয়া পরশু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তাঁর বাড়ীতে ৯৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ১৫ই আগস্ট ১৯১৯ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মার নাম রতি বাঈ।উল্লেখ্য, কায়েদে আযম প্রথম বিয়ে করেন ১৮৯২ সালে এমি বাঈকে। পরের বছরই উনি মারা যান। এ ঘরে তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। ১৯১৮ সালে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন রতি বাঈ পেটিটকে। রতি প্রথমে পার্সিয়ান ছিলেন। বিয়ের সময়ে শিয়া হয়ে মরিয়ম জিন্নাহ হন। কিন্তু কায়েদে আযম তাঁকে রতিই বলতেন। তাই, এ নামেই তিনি পরিচিতা হন। দিনার জন্মের আগ মুহূর্তে জিন্নাহ-রতি দম্পতি লন্ডনে একটি সিনেমা হলে সিনেমা দেখছিলেন। সেখানে রতির প্রসব ব্যথা শুরু হলে, তাঁদের হল ত্যাগ করতে হয়। দিনার মাত্র ৯ বছর বয়সে ২০শে ফেব্রুয়ারী ১৯২৯ সালে তাঁর মা মারা যান। তখন তাঁদের বাড়ীতে তাঁর চিরকুমারী ফুফু পাকিস্তানের মাদার-ই-মিল্লাত (জাতির মাতা) ফাতেমা জিন্নাহ চলে আসেন এবং তাঁর কাছেই দিনা লালিত-পালিত হন। রতির মৃত্যুর পর কায়েদে আযম আর বিয়ে করেননি।

১৫ই নভেম্বর ১৯৩৮ সালে দিনা একজন ভারতীয় অমুসলিম তথা পার্সিয়ান ব্যবসায়ী নেভিল ওয়াদিয়াকে বিয়ে করলে, বাপ-বেটির মাঝে ঝগড়া হয় এবং সম্পর্কে চিড় ধরে। এ দম্পতির ঘরে এক ছেলে নুসলি ওয়াদিয়া এবং এক মেয়ে ডায়না ওয়াদিয়া জন্মগ্রহণ করেন। তারা বেঁচে আছেন। নেভিল পরে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের বিয়ে বেশিদিন টিকেনি। ১৯৪৩ সালেই দিনা ও নেভিলের মাঝে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর বাপ-বেটির মাঝে টেলিফোনে কথাবার্তা ও পত্রালাপ শুরু হয় এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে থাকে। ৩১শে জুলাই ১৯৯৬ সালে নেভিল মারা যান।

দিনা ওয়াদিয়া জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র চারবার তিনি পাকিস্তানে যান! প্রথমবার ১৯৪৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর, শেষ বিদায় জানাতে। এরপর আরো দু’বার ফুফু ফাতেমা জিন্নাহকে দেখতে। তৃতীয় সফরটি ছিলো ১৯৬৭ সালে। কিন্তু দিনা প্রবল প্রচারবিখুম হওয়ায় তাঁর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাকিস্তান সফর সম্পর্কে অনেকেই জানে না। বিবিসির সাবেক সংবাদদাতা এন্ড্রু হোয়াইটহেড ২০০২ সালে দিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁর তৃতীয় ও চতুর্থ পাকিস্তান সফরের খবর জানান। এরপর ২০০৪ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক সফরের সময় পাকিস্তানের তখনকার রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমন্ত্রণে। উপলক্ষ ছিলো, ভারত-পাকিস্তানের স্মরণীয় ক্রিকেট সিরিজের সাক্ষী থাকা। দিনা বিশ্বাস করতেন, ক্রিকেট কূটনীতি দু’টি দেশকে কাছাকাটি নিয়ে আসতে পারে। এই শেষবার পাকিস্তান সফরে বাবার মাজার জিয়ারত করে দিনা ভিজিটার্স বইতে লিখেছিলেন: এই ঘটনা তাঁর কাছে দুঃখের ও বিস্ময়ের। বাবার স্বপ্নের পাকিস্তান সত্যি হোক।

দিনা দেখতে তাঁর বাবার মতোই ছিলেন। এন্ড্রু হোয়াইটহেডকেও তিনি বলেছিলেন যে, তিনি ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রে মায়ের চেয়ে বাবার দিকটাই বেশি পেয়েছেন। মুসলিম লীগের দাবি মোতাবেক, বৃটিশরা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলে, দিল্লি থেকে মেয়েকে ফোন করে কায়েদে আযম বলেছিলেন: আমরা যা চেয়েছি, তা পেয়ে গেছি!

বেনজির ভুট্টো এবং অন্য অনেকে বহু বার তাঁকে পাকিস্তানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি তাদের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। তিনি একটি পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হতে চাননি। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানকে লুন্ঠন করেছে দেশটির নেতারা এবং কোন মুসলিম দেশেই গণতন্ত্র সফল হয়নি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের সম্পর্কে তিনি বলেন: গান্ধীর সঙ্গে তার অনেক মধুর স্মৃতি রয়েছে। গান্ধীকে পছন্দ করতেন তাঁর বাবা। সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল ছিলেন একেবারে সোজা কথার মানুষ। কিন্তু নেহেরুকে সহজে তোষামোদ করা যায় এবং নেহেরু আসলে তাঁর বাবার সমকক্ষ নন। আর মাউন্টব্যাটেন এমন একজন মানুষ, যাকে বিশ্বাস করা যায় না।

নিজের বাবা সম্পর্কে দিনার মূল্যায়ন হচ্ছে, যেভাবে পাকিস্তানে তাঁর বাবাকে পূজা করা হয়, সেটা তিনি পছন্দ করেন না। মুম্বাইয়ে কায়েদে আযমে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর যে বাড়ি সম্প্রতি ভেঙে ফেলার দাবি উঠেছে, ঐ বাড়িতেই এক সময়ে ছিলেন দিনা। তাঁর দাবি ছিলো, বাড়িটা আইনত তাঁরই প্রাপ্য। জিও নিউজ, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি ইত্যাদি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:০৪ ● ৭৫ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...