পুঁজিবাদ উত্তর সমাজ ব্যাবস্থা ও সাম্য-ড.রফিকুল ইসলাম তালুকদার
প্রথম পাতা » অর্থ ও বানিজ্য » পুঁজিবাদ উত্তর সমাজ ব্যাবস্থা ও সাম্য-ড.রফিকুল ইসলাম তালুকদার


মঙ্গলবার ● ১ মে ২০১৮

ড.রফিকুল ইসলাম তালুকদারঅাল-আমিন আহমেদ সালমান,স্টাফ রিপোর্টার বঙ্গ-নিউজ:-সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের টাইমলাইন অবলম্বনে মহান মে দিবস উপলক্ষে এই তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধটি – “পুঁজিবাদউত্তর সমাজব্যবস্থা ও সাম্য”-  প্রকাশ করা হলো।

মহান মে দিবস সফল হোক, শ্রেণী বিভাজন নিপাত যাক, ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা পাক।

পিটার এফ ড্রুকার (১৯৯৩) তার “পোস্ট ক্যাপিটালিষ্ট সোসাইটি” বইতে উল্লেখ করেন যে পুঁজিবাদী সমাজ থেকে নতুন সমাজের রূপান্তর দ্রুত চলছে। কিছু ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ইতিমধ্যেই ঘটেছে। নতুন সমাজব্যবস্থা ‘পুঁজিবাদী বা অ-পুঁজিবাদী সমাজ’ হবে না; ‘মার্কসবাদী বা সমাজতান্ত্রিকও’ হবে না; তবে অবশ্যই পুঁজিবাদের মৌলপ্রতিষ্ঠানগুলি এখানে বেঁচে থাকবে।

পুঁজিবাদউত্তর সমাজের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল জ্ঞান। প্রধান উৎপাদনশীল ফ্যাক্টর এখন পুঁজি বা জমির মালিক বা শ্রম নয়; এটি অবশ্যই জ্ঞান ও প্রযুক্তি। এটি জ্ঞান ও তথ্যভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। তবু পুঁজিবাদের মৌলিক চরিত্র রয়েই গেল, যেমনঃ শ্রেণী বিভাজন।

পুঁজিবাদের উৎপাদন বিপ্লবের সময় শ্রেণী বিভাজন-’পুঁজিপতি ও সর্বহারা’ এবং পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা বিপ্লবের সময় ‘স্টেকহোল্ডারস এবং পেশাদারগণ’। পুঁজিবাদউত্তর সমাজের নতুন শ্রেণী হল “জ্ঞান কর্মী ও সেবা কর্মী”। তবু শ্রেণী বিভাজন রয়েই গেল – এটি নিপাত যাক, সকল শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক। একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা পাক।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছোটবেলায় রুটির দোকানে কাজ করতেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসময় চা বিক্রেতা ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১ম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ভূমি জরিপের কাজ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন প্রথম জীবনে নিজ এলাকায় পোস্ট মাস্টারের কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্টে জিমি কার্টার ছিলেন একজন চীনাবাদাম বিক্রেতা।

তাদের পরের অর্জনগুলি বিশেষ সাফল্য, কিন্তু আগের কাজগুলোও তারা যত্নের সাথে, দায়িত্বের সাথে করেছে এবং তাতেও তারা সফল। শ্রমের মর্যাদা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাম্যের গান গাওয়ার মাধ্যমেই নতুন দিন রচনা করতে হবে। কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘মানুষ’ কাব্যে উল্লেখ করেন -

“গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান, নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি। ‘পূজারী, দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হ’ল!”

বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৯:৪৫ ● ১০১ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...