কম সময়ে নানা জরুরি প্রসঙ্গে আলোচনা হবে- ভারত বাংলাদেশ

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » কম সময়ে নানা জরুরি প্রসঙ্গে আলোচনা হবে- ভারত বাংলাদেশ
শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮



ফাইলে ছবি বঙ্গ-নিউজঃ শান্তিনিকেতনে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে তিস্তা থেকে রোহিঙ্গা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু- সবই স্থান পাচ্ছে। বৈঠকের সময়ও ৫০ মিনিট থেকে বাড়িয়ে ৬০ মিনিট করা হয়েছে। দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে ২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত দুই প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্নিষ্ট কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারের বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক। একান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসবে কি-না জানতে চাইলে সূত্র জানিয়েছে, আলোচ্যসূচিতে এ ইস্যু স্বাভাবিকভাবেই থাকছে না। কারণ, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন একান্তই এ দেশের নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কিছু নেই। তবে আলাপচারিতায় চলমান অনেক বিষয়ের সঙ্গে নির্বাচন নিয়েও কথা হতে পারে।

বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক মঞ্চে উঠবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার কোনো বৈঠক হবে কি-না তা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো সূত্র জানাতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে অবশ্য বলা হয়েছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তিস্তা চুক্তিসহ এমন কিছু ইস্যু আছে যেগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর দুই দেশের ধারাবাহিক সম্পর্কের আরও একটি মাইলফলক হতে চলেছে বলে অভিমত দিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ড. ওয়ালিউর রহমান।

আজ শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এর পর তারা এই বাংলাদেশ ভবনেই বৈঠকে বসবেন। আগামীকাল শনিবার আসানসোলে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার ‘ডি-লিট’ ডিগ্রিও দেওয়া হবে।

আলোচ্যসূচিতে যা থাকছে :পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, রোহিঙ্গা সংকট এবং দুই বন্ধু রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যৌথ স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো রয়েছে।

বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিস্তা চুক্তি সংক্রান্ত বিদ্যমান পরিস্থিতি সাপেক্ষে আলোচনা এর চেয়ে বেশি এগোনোর সম্ভাবনা কম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের দিক থেকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করা এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাড়ছে ভারতের অংশীদারিত্ব। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও যৌথ সহযোগিতার সম্পর্ক উত্তরোত্তর বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয় বিশেষভাবে স্থান পাচ্ছে।

বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। তবে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক সম্পর্কে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উত্তরোত্তর নিবিড় হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দু’দেশের সম্পর্ক ভিন্ন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। এ অবস্থায় শুক্রবার তাদের মধ্যে যে বৈঠক হবে, তা দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি মাইলফলক হবে। তিনি বলেন, তার বিবেচনায় এ আলোচনায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাবে। এর বাইরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসূচি :আজ সকাল ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবেন। এর পর কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে বীরভূম জেলার বোলপুরে শান্তিনিকেতনে যাবেন।

শান্তিনিকেতনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে যোগ দেবেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নেবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতায় আসবেন। তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় হোটেল তাজ বেঙ্গলে কলকাতা চেম্বারের নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

আগামীকাল রাতে ঢাকা ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বভারতীকে ১৫ কোটি রুপি দেবে বাংলাদেশ :সমকালের কলকাতা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বোলপুর ও বিশ্বভারতীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় সময় বেলা ৩টা ৩০ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনেই থাকবেন। তিনি সেখানে ভারতীয় সময় ৩টায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ হাইকশিনের প্রতিনিধিসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিশ্বভারতী সূত্র জানিয়েছে, নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ কোটি রুপি অতিরিক্ত করপাস ফান্ড হিসেবে দেবে।

এদিকে গতকালই বিশ্বভারতীতে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছে তিনি বলেছেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকা তার বড় একটা পাওয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমি বলব এসো, আমার ঘরে এসো, আমার ঘরে।’

শান্তিনিকেতন গেলেন শিক্ষামন্ত্রী :এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন।

শিক্ষামন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি তদারক করতে অগ্রগামী দলের সদস্য হিসেবে সেখানে গেলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা গত মঙ্গলবার একই উদ্দেশ্যে শান্তিনিকেতনে গেছেন।

সুত্রঃ সমকাল

বাংলাদেশ সময়: ২:৪৮:৩৪   ৬৩ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থ ও বানিজ্য’র আরও খবর


জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশন শুরু হয়েছে, যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
বাজেট জনকল্যাণমূলক না হওয়ায় জনগণ হতাশঃ বিএনপি
আমার বাজেট নির্বাচনী বাজেটই হবে:সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নির্বাচনী বাজেট’ বলে প্রত্যাখ্যান বিএনপির
বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা
বেসরকারি হেলিকপ্টার সেবায় ২০ শতাংশ শুল্কারোপ
‘সমৃদ্ধ আগামী:অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ’ শিরোনামে আজ জাতীয় বাজেট পেশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে: কে এম নূরুল হুদা
`মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখুন’- মিলিব্যান্ডের সঙ্গে সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত,অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী-প্রধানমন্ত্রী

আর্কাইভ