জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাস চালক মাসুম বিল্লাহ। হত্যার দায় স্বীকার করে

Home Page » আজকের সকল পত্রিকা » জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাস চালক মাসুম বিল্লাহ। হত্যার দায় স্বীকার করে
বুধবার, ৮ আগস্ট ২০১৮



---
বঙ্গ-নিউজ  ;রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে বাসচাপা দিয়েছিলেন জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাস চালক মাসুম বিল্লাহ। এতে ঘটনাস্থলেই এই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম এবং বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর খাসকামরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মাসুম বিল্লাহ। জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নং ঢাকা মেট্টো-ব-১১-৯২৯৭) চালক। গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি উঠিয়ে দেই। এতে তারা গুরুতর জখম হয়। ঘটনার পর পরই আমি গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির মারাত্মক আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৮-১০ জন।’

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য তিনটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ছাত্ররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।

জাবালে নুরের সেই বাস ও ঘাতক চালক মাসুম বিল্লাহকে সাতদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করেন। এ সময় প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্তকারী বলেন, আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে আগ্রহী। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

এরআগে গত ১ আগষ্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এই মামলায় মাসুম বিল্লাহকে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল।

‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘প্রাণহানির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ ইচ্ছাকৃত ছিল তদন্তে তা প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী চালকের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।’

এ আইন অনুযায়ী বিচার হলে চালক মাসুম বিল্লাহর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা, কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। গত সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে বহুল আলোচিত এই আইনের অনুমোদন দেয়া হয়।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষিতে এক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার দিনই নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

জাবালে নুর বাসের এক মালিক শাহাদাত হোসেন বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া জাবালে নুর পরিবহনের অপর দুই বাসের চালক সোহাগ আলী ও জুবায়ের এবং হেলপার এনায়েত হোসেন ও রিপন রিমান্ডে আছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তনাধীন।

এই দুর্ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এরপর ৯ দফা দাবিতে টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশ সময়: ২১:২৯:১৬   ২৬৮ বার পঠিত   #  #  #  #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আজকের সকল পত্রিকা’র আরও খবর


সমগ্র হাওরবাসীকে হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকারের শারদ শুভেচ্ছা
প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনধারা
বি চৌধুরী বিহীন, বিএনপিকে নিয়ে ড. কামালের জোট
ভোটের দিন ওয়াকিটকি ব্যবহারে আগ্রহী ইসি
তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধপত্র পাঠাবে সরকার
মুম্বাইতে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাড়ানোর দাবি উঠছে প্রকাশ্যে
রাজধানীর উত্তরখানে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ একজনের মৃত্যু
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হল বাংলাদেশ
লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন
কোটা বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ছাড় পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও

আর্কাইভ