যেভাবে উদ্ধার করা হলো শিশু দুটিকে

Home Page » আজকের সকল পত্রিকা » যেভাবে উদ্ধার করা হলো শিশু দুটিকে
বুধবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮



ফাইল ছবি
বঙ্গ-নিউজঃ  রাজধানীর বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির সামনে সড়কের ওপর সকাল থেকেই ছিল মানুষের জটলা। আশপাশের বহুতল ভবন থেকেও কৌতূহলী মানুষ অপেক্ষায় ছিল, কখন উদ্ধার হবে শিশু। এরই মধ্যে কাজ করে যাচ্ছিলেন পুলিশ, র‌্যাব আর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, তাঁরা চান কোনো রক্তপাত ছাড়াই যেন ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।

কীভাবে সবকিছু সামলে এই উদ্ধার তৎপরতা শেষ করা গেল?
এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার  বলেন, ‘সকালে আমরা শিশু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়ার পর থেকে কাজ শুরু করি। খবর পাই ঘরের ভেতরে শিশুর লাশ আছে, আরেক শিশু বাবার সঙ্গে আছে। ঘটনাস্থলে আসার পর দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে এর সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হই। দেখা যায়, ভেতরে টুপি ও পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিও আছেন। শুরুতে আমরা আসার খবর পেয়ে শিশুদের বাবা নুরুজ্জামান কাজল ক্ষিপ্ত হন। আমাদের চলে যেতে বলেন। না হলে অপর শিশুকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তাঁর হাতে রামদা। পরে কৌশল বেছে নিই।’
মারুফ বলেন, ‘ভেতরে থাকা সবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিই আমরা। ধৈর্য ধরি। হুট করে কিছু করতে যাইনি আমরা। রক্তপাত ছাড়াই কীভাবে কাজ করা যায়, সেভাবে কৌশল করি। নুরুজ্জামান কাজলকে আমরা শান্তভাবে বলি, বাইরে আপনাদের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছে। শিশুটির জানাজার জন্য মসজিদে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিশুটির জানাজার কথা বলাতে নুরুজ্জামান কিছুটা শান্ত হন। একপর্যায় দরজা খুলে তিনি বের হন। আগে থেকেই দরজার আশপাশে কিছু পুলিশ সদস্যকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। কাজল দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আটক করে ফেলি। উদ্ধার করি জীবিত শিশু এবং অপর শিশুর লাশ।’
শিশুটিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে—জানতে চাইলে মারুফ সরদার বলেন, ‘বাসার ভেতরে আমরা ঢুকে দেখি, পুরো বাসাটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। নুরুজ্জামানকে দেখে স্বাভাবিক মনে হয়নি। শিশুটির ময়নাতদন্তের আগে বলতে পারছি না, এই শিশুর মৃত্যুর কারণ কী।’

ফায়ার সার্ভিসের হেডকোয়ার্টারের ইন্সপেক্টর আবদুর সহিদ  বললেন, ‘আমরা কৌশলী হওয়ার কারণে সবকিছু ঠিকভাবে করা গেছে। বাড়িটিতে আসার পর আমরা দরজার ফাঁক দিয়ে নুরুজ্জামান কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করার পর তিনি খেপে যান। আমাদের চলে যেতে বলেন। পরে ভেতরে আলেম সাহেবের সহায়তায় কাজলকে বলা হয়, ছেলের জানাজা পড়াতে হবে। মানুষ অপেক্ষা করছে। এতেই মন গলে যায় কাজলের। একপর্যায়ে দরজা খুলে দিলে সবাইকে উদ্ধার করা হয়।’

র‍্যাব-২-এর এসআই শহীদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, শিশুটির বাবা বসে আছেন, তাঁর পাশে একজন হুজুর বসে আছেন। শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। বেলা একটার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব।’
শহীদুল বলেন, ‘এই কণ্ঠ শুনে মনে হয়েছে, হুট করে কিছু করা যাবে না। পরে কৌশলে জানাজার কথা বললে তিনি বেরিয়ে আসেন।’
নুরুজ্জামান মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন। তিনি বলেন, কাজলকে আগেও মাদকাসক্ত থাকার কারণে জেলে পাঠানো হয়েছিল।
কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই কাজল মাদকাসক্ত।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৬:৫৭   ৯১ বার পঠিত   #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আজকের সকল পত্রিকা’র আরও খবর


সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের ৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে
সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি
সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে,মহেশখালীতে শিশুসহ ৩১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ
স্বাভাবিক নিয়মে সময়মতোই সন্তান নিয়ে ফেলব-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
শাফাতের জামিন বাতিল,কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
নয় বছর পর মধুর ক্যানটিনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
রঙ্গিন পর্দা থেকে রাজনীতিতে শিল্পা শিন্ডে
রোহিঙ্গা শঙ্কটে শঙ্কায় সীমান্তের মানুষ
পুরোদমে চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ
পিকনিকের বাসে তল্লাশি চালিয়ে আড়াই লাখ ইয়াবা

আর্কাইভ