“রঙে ভরা আমার ব্যাংকিং জীবন “-জালাল উদদীন মাহমুদ

Home Page » বিনোদন » “রঙে ভরা আমার ব্যাংকিং জীবন “-জালাল উদদীন মাহমুদ
সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯



 

জালাল উদদীন মাহমুদ

৭৮তম পর্ব–
ডেমাজানি শাখা ,বগুড়া -৩৭ , মোহাম্মদ হোসেন স্যার -৩

বগুড়া্র এ সব ঘটনা ছাড়া মোহাম্মদ হোসেন স্যার সম্পর্কে আমার আর যা জানা ছিল তা হলো তিনি সরকারের একজন নামকরা আমলা ছিলেন। ১৪/১০/৮৩ থেকে ১১/০৪/৮৭ তারিখ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের এম ডি ছিলেন। স্যারের সম্পর্কে আমার আর তেমন কিছু জানা ছিলনা। আমি সাবেক এম ডি মোহাম্মদ হোসেন স্যার সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার আশায় কয়েকদিন আগে ‘অগ্রণী ব্যাংকের ডি এম ডি জনাব নুরুল আহসান স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। ডি এম ডি স্যার তার অতীত স্মৃতি হাতড়ায়ে হাতড়ায়ে যে তথ্য দিলেন তাতে আমার মনে হয়েছে মোহাম্মদ হোসেন স্যার সৎ ছিলেন। ভালো প্রশাসক ছিলেন। ব্যাংকের স্থায়ী সম্পদ বাড়ানোর দিকে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। শাহবাগের প্রায় দুই বিঘা জমি, মতিঝিলের দুই নম্বর ভবন , রাজশাহীতে ২টি প্লট ,ছোট বাজার , নেত্রকোণা ,যশোর , নারায়নগন্জ ইত্যাদি স্থানে তিনি এম ডি থাকা অবস্থায় অগ্রনী ব্যাংকের নামে জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এ সব দেখার জন্য তিনি দৈনিক মজুরী ভিত্তিক লোক নিয়োগ করে দিয়েছিলেন। ব্যাংকে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক লোক নিয়োগের প্রচলন প্রথম তিনিই করেন। এ ছাড়া শীপ ব্রেকিং খাতে ঋণ প্রদান ও ব্যাক টু ব্যাক এ লসি খোলা -এ সব ক্ষেত্রেও তিনি সারা দেশে পাওনিয়র ছিলেন। বছরে ২/৩ বার প্রমোশন , স্পেশাল ৩টি ইনক্রিমেন্ট দিয়ে ৩ জন এম বি এ ডিগ্রীধারীকে এবং ফিশারিশে ডিগ্রীধারী একজনকে ১১টি স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট দিয়ে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন। এত বোঝা যায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন বিষয়ে স্পেশালিষ্ট নিয়োগে তৎপর ছিলেন। ব্যাংকে লাইব্রেরী স্থাপন করেছিলেন। ব্যাংকে ডাক্তার নিয়োগ করেছিলেন।

স্যারের কর্মকান্ডগুলো শুনে খুব ভাল লাগলো ।

৭২ , মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত অগ্রণী বাংকের ভবন -২ এর স্থানে বর্তমানে যে ১৯ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তার জমি তার উদ্যেগে কেনা। এ সম্পত্তি কেনার জন্য স্যারকে বিনা দোষে বেশ হেনেস্থার শিকারও নাকি হতে হয়েছিল। অনেকে নাকি এ জায়গা কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বেশী দামে জমি কিনে তাঁর ব্যাক্তিগত কি লাভ এ প্রশ্নও নাকি আড়ালে-আবডালে কেউ কেউ তুলেছিলেন। তিনি জায়গা কিনেছিলেন একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন থেকে। একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংক আরেকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ক্রয় করলে সেখানে ব্যাক্তিগত কিছু লাভের কি থাকতে পারে ? তখন যতই সমালোচনা হোক এখন সবাই বুঝতে পারছেন – এ সম্পত্তি কিনে তিনি এ ব্যাংকের কি উপকারই না করে গেছেন। তিনি যে একজন দূরদর্শী ব্যক্তি ছিলেন এতে অন্ততঃ আমার কোন সন্দেহ নাই।

কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ হোসেন স্যারের প্রায় একক সিদ্ধান্তে কেনা এ স্থানে নির্মানাধীন ভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে আসার সময় দেখলাম এ ভবনের নাম “ অগ্রণী বাংক মোহাম্মদ হোসেন ভবন” রেখে একটা সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। দেখে খুব ভাল লাগলো। যোগ্য লোককে যোগ্য সন্মান দেয়া হয়েছে।
আমি মোহাম্মদ হোসেন স্যার সম্পর্কে আরো তথ্য জানার আশায় অগ্রনী ব্যাংকের সাবেক জি এম জনাব মাসুদ আলম খাঁন এর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি স্যারের পি এস ছিলেন। মাসুদ আলম খাঁন স্যার জানালেন তিনি নিজেই মোহাম্মদ হোসেন স্যার উপর একটা আর্টিক্যাল লিখবেন। এ কথা শোনার পর মোহাম্মদ হোসেন স্যার সম্পর্কে নতুন করে আমি আর তথ্য-তালাশে ব্রতী হই নাই।
ফেসবুকে আমার লেখা পড়ে সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক জনাব ফরহাদুল ইসলাম আমাকে একদিন ফোন করেছিলেন । তিনি সে সময় এমডি সেক্রেটারিয়েটেই কর্মরত ছিলেন। তিনি এক দিনের একটি ঘটনা বললেন।
তার ছুটির প্রয়োজন হওয়াই তিনি ১৯৮৪ সালের কোন একদিন সরাসরি এমডি স্যারের রুমে ঢুকলেন-
-আসসালামো আলাইকুম স্যার,
-অ আলাইকুম অ সালাম। কি চাই?
-আমার কয়েকদিন ছুটি লাগবে স্যার ?
-ছুটি লাগবে ? তা আমার কাছে কেন বলতে হবে?
- ঢাকার বাহিরে যাব তো স্যার , তাই আপনাকে একটু জানাতে এসেছি ?
-ঢাকার বাহিরে ? কোথায় যাবেন ?
-দিনাজপুরে।
- কিভাবে যাবেন ? কোথায় থাকবেন ?
- ট্রেনে যাব। ওখানে যেয়ে কোন একটা হোটেল খুঁজে নিব।
স্যার তখন ফরহাদ ভাইকে বসতে বললেন। পি এ পাল বাবুকে দিনাজপুরের ডি সি কে ফোন লাগাতে বললেন।তিনি ডিসি মহোদয়কে ফোনে তার থাকার ব্যবস্থা করে দিতে বললেন। ডিসি সাহেব নাকি এক সময় তাঁর অধীনে কাজ করেছিলেন।
ফরহাদ ভাই দিনাজপুরের রেল ষ্টেশনে পৌঁছে দেখেন ”অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাকে স্বাগতম “ লেখা প্লাকার্ড হাতে ডি সি অফিসের একজন কর্মকর্তা অপেক্ষা করছেন। তাদের তত্বাবধানে তিনি দিনাজপুরে কয়েক দিন আরাম-আয়েশে কাটাতে পারলেন।

স্যারের সিংহ হৃদয়ের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটা নরম মনও যে ছিল তা বোঝার জন্য আমি এ ঘটনাটির উল্লেখ করলাম।(ক্রমশঃ)

বাংলাদেশ সময়: ১০:১৯:০৯   ৭৭ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

বিনোদন’র আরও খবর


ধর্ষণের মহোৎসব : রনজিত চাঙমা (১৯/৪/২০১৯ইং)
মার্কিন সাময়িকী টাইমের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় মাহাথির, ইমরান ও জেসিন্ডা
আম্র-পালী আমের নামকরণের ইতিহাস -১১ ( বিম্বিসার ও আম্র-পালীর প্রেম –কাহিনী-৪):জালাল উদদীন মাহমুদ
ভারতের অমিত রায়ের সাথে প্রিমা
নির্বাচনী রোডশোতে অংশ নেয়ায় ভারতীয় ভিসা বাতিল ফেরদৌসের,ঢাকায় পৌঁছেছেন তিনি
আম্র-পালী আমের নামকরণের ইতিহাস -১০( বিম্বিসার ও আম্রপালীর প্রেম –কাহিনী-৩) :জালাল উদদীন মাহমুদ
নূসরাত, মাগো ক্ষমা করো -ইফতেখার আলম
জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি
যৌন হেনস্তা নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
আজ চৈত্র সংক্রান্তি

আর্কাইভ