চীনের ইউয়ান রাজবংশের নাম-করা মহিলা আবিস্কারক হুয়াং ডাও পো সম্পর্কে

Home Page » ফিচার » চীনের ইউয়ান রাজবংশের নাম-করা মহিলা আবিস্কারক হুয়াং ডাও পো সম্পর্কে
বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৩



01300000089792121170695712840.jpgমাঈশা বঙ্গ-নিউজ ডটকমঃ ১২৫৪ সালে ইউয়ান রাজবংশ আমলে সংচিয়াং উনিচিন বা বর্তমানের শাংহাই হুয়াচিন নগরে জন্ম গ্রহণ করেন হুয়াং ডাও পো। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। অল্প বয়সে জীবিকার জন্য তিনি হাইনান দ্বীপে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় লি জাতির কাছ থেকে বস্ত্রবয়নের আধুনিক পদ্ধতি শিখে ফেলেন। ত্রিশ বছর পর তিনি তার জন্মস্থানে ফিরে স্থানীয় জনসাধারণকে বস্ত্রবয়নের কৌশল শিখিয়ে দেন। এর পাশাপাশি তিনি বস্ত্রবয়নের যন্ত্রপাতিরও সংস্কার সাধন করেন। চীনের বস্ত্রবয়ন শিল্পের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। হুয়াং ডাও পোকে চীনের প্রাচীনকালের মহান মহিলা আবিস্কারক ও সংস্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।সাত শো বছর আগে সংচিয়াং উনিচিন ছিল অত্যন্ত গরীব এলাকা। স্থানীয় লোকেরা তুলার চাষ ও বস্ত্রবয়নের ওপর নির্ভর করতেন। তাদের জীবন ছিল কঠিন। যখন হুওয়াং ডাও পোর বয়স আট বছর, তখন তার বাবা-মা মারা গেলেন। তিনি একটি পরিবারের বাল্যবধু হলেন। দিনের বেলায় তিনি জমিতে কাজ করতেন, আর রাতবেলায় করতেন বস্ত্রবয়নের কাজ। বছরের চারটি ঋতুতে তার কোন অবসর ছিল না। শ্বশুর-শ্বাশুড়ী ও স্বামী তার কোন কাজে সন্তুষ্ট না-হলে তাকে ধমক দিতেন বা মারপিট করতেন। বয়স কম হলেও হুওয়াং ডাও পোর মন ছিল শক্তিশালী। তিনি মনে মনে এ-পরিবার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। একদিন গভীর রাতে হুওয়াং ডাও পো আস্তে আস্তে বাসা থেকে চলে গেলেন। অবশেষে তিনি স্বামীর পরিবারের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেলেন।

একদিন ভোরবেলায় তিনি হুওয়াপু নদীর পাশে পৌছলেন। বন্দরে কয়েকটি বড় জাহাজ ছিল। তখনও জাহাজের নাবিকরা ঘুম থেকে উঠেননি। তিনি একটি জাহাজের কেবিনে লুকিয়ে রইলেন। যখন জাহাজ বন্দর থেকে সাগরের দিকে যাত্রা শুরু করলো, তখন হুওয়াং ডাও পো কেবিন থেকে জাহাজের ডেকে এসে নাবিদের সামনে হাজির হলেন। তাকে দেখে ডেকে উপস্থিত সকলে ঘিরে ধরল। সবাই তাকে অনেক প্রশ্ন করল। হুওয়াং ডাও পো তার ঘটনা খুলে বললেন। তার বর্ননা শুনে সবাই তাকে সহানুভূতি প্রদর্শন করলেন। নাবিকদের মধ্যে একজন হুওয়াং ডাও পোকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি বাসা থেকে পালিয়ে এসেছ। এখন তুমি কোথায় যেতে চাও?’ ‘ আমি নিজেও জানি নি। এখন আমার কোন স্বজন নেই। আমি কেবল বাঁচতে চাই। অত্যাচার-নির্যাতনের ভয় না-থাকলে আমি যে-কোন কাজ করতে পারি এবং যে-কোন জায়গায় যেতে চাই।’ ‘আমাদের জাহাজ অনেক দূরে যাবে। তুমি হয়তো জান না, আমাদের জাহাজ অনেক দূরের হাইনান দ্বীপে যাচ্ছে। তুমি কি আমাদের সঙ্গে যেতে চাও?” ‘অবশ্যই আমি আপনাদের সঙ্গে সেখানে যেতে ইচ্ছুক।’ উত্তর দিলেন হুওয়াং ডাও পো। তারপর তাদের মধ্যে আরেক জন লোক বললেন: ‘হাইনান দ্বীপে চার ঋতুতে শীতকালের কাপড়চোপড় পড়ার দরকার নেই। তা ছাড়া, ওখানে অনেক ধরনের ফুলমুল আছে।’

‘সেখানে আমি চাকরি পাবো কি?’ হুওয়াং ডাও পো আবেগের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন।

‘অবশ্যই। হাইনান দ্বীপে তুলা চাষ করা হয়। সেখানকার লোকজন বস্ত্রবয়ন কাজে পটু।’ উত্তর দিলেন তাদের মধ্যে একজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:১২:৪৬   ৩৩৬ বার পঠিত  




ফিচার’র আরও খবর


ডলারের দাম যেভাবে বাড়ছে, টাকার দাম কেন কমছে
বাংলাদেশর প্রতিনিধি দল মেঘালয়ে- বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
সিলিং ফ্যান পরে আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান- মাথায় ৩ সেলাই
টাইটানিক রহস্য
পর্যটকদের উপর হামলা- আটক ২
‘৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স যোগ করছে ফ্রিল্যান্সারা - বিএফডিএস এর আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী
সারাদেশে ঈদের দিন বৃষ্টিপাত !
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আদ্যোপান্ত - প্রথম পর্ব
নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
ভয়াবহ সেই দুপুর

আর্কাইভ

16. HOMEPAGE - Archive Bottom Advertisement