ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ৪৬”

Home Page » সাহিত্য » ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ৪৬”
সোমবার, ১৬ আগস্ট ২০২১



নতুন প্রজন্মের চোখে মুক্তিযুদ্ধ
“২৭. ভারত ভাগ (উপমহাদেশের বিভজন ) -১৯৪৭–র্বতমান” এ পয়ন্টেটিকে আমরা মূলতঃ নিন্মোক্ত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করে নিয়ছিলাম, যথাক্রমে : ১. ভারতে ব্রিটিশ সরকারের ‘ভাগ কর শাসন কর নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার’ , ২. ১৯৪৭-ভারত ভাগ (উপমহাদেশের বিভাজন ), ৩.বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে (১৯৪৭-১৯৭১) রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ৪.ভাষা আন্দোলন, ৫.১৯৫৪ সালরে নির্বাচন ও পরর্বতী ঘটনাপ্রবাহ, ৬.সামরিক শাষন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯), ৭.ছয়দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ,৮.সত্তরের (১৯৭০) নির্বাচন, ৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১০.বাংলাদেশের স্বাধীনতা র্অজনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অবদান, ১১.স্বাধীন বাংলাদশেরে অভ্যুদয়৷ এই পয়েন্ট বা বিষয়গুলোর মধ্যে আবার বেশীরভাগ পয়েন্টগুলোই এই কলামের প্রথমদিকে আলোচিত হয়েছে ।

৩.বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে (১৯৪৭-১৯৭১) রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির সময় পূর্ব বাংলায় অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তান,পশ্চিম পাকিস্তান ও ভারতবর্ষে অর্থাৎ এ অঞ্চলে প্রধানতঃ তিনটি রাজনৈতিক দল বা ধারা বা মতবাদ বিদ্যমান ছিল ৷
১.ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম লীগ,২.অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারার দল জাতীয় কংগ্রেস, ৩. বিপ্লবী সাম্যবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি ৷নিম্নে তৎকালীন সময়ের এই রাজনৈতিক দল বা মতবাদগুলোর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো :
১.ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম লীগ : ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জণ্মের পর নিখিল ভারত মুসলিমলীগের নতুন নামকরণ হয় পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এখানে, পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাকিস্তানের নেতা কর্মীরা জড়িত ছিলেন) ৷ নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের শাসক দল হিসেবে “মুসলিম লীগ” তার যাত্রা শুরু করে৷শুরু থেকেই “মুসলিম লীগ” উর্দুভাষী পশ্চিম পাকিস্তনি নেতৃবৃন্দের কেন্দ্রীয় দলে পরিণত হয় যেখানে কিনা ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তনি নেতৃবৃন্দের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাছ্ছিলো ৷পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে বাঙালি অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টা,উদ্যোগ ও আত্মত্যাগ ভুলে গিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি মুসলিম লীগ নেতারা বাঙালিদের অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে, নিরীহ বাঙালির প্রতি চালায় দমননীতি৷ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,আবুল হাশিমদের মতো মুসলিম লীগের ত্যাগী বাঙালি নেতারা উপেক্ষিত হন ৷ শাসকদল হিসেবে মুসলিম লীগ শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করতে আরম্ভ করে এবং সম্পূর্ন অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে থাকে ৷ এর ফলে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ জনবিছ্ছিন্ন হতে শুরু করে৷ ১৯৪৭ সালের শুরু থেকেই তৎকালীন মুসলিম লীগ অভ্যন্তরীন কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে ৷ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের কারনে এসয় দলটি দ্বিমুখী ধারা বা মতবাদে বিভক্ত হয়ে পড়ে ৷ এদের মধ্যে একটি ধারা ছিল সোহরাওয়ার্দী-হাশিমপন্হী এবং অন্যটি ছিল খাজা নাজিমউদ্দিন-আকরাম খাঁ পন্হী ৷প্রথম ধারাটি ছিল মূলতঃ পূ্র্বপাকিস্তানের জনগণের পক্ষে ও উদার,গনতান্ত্রিক,প্রগতিশীল আর পক্ষান্তরে দ্বিতীয় ধারাটি ছিল রক্ষনশীল এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষে৷ ফলে তখন দলের অভ্যন্তরের এই অন্তঃ কোন্দল দলটিকে কিছুদিনের জন্য সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দেয় ৷তৎকালীন সময়ে দুই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠিত এই “মুসলিম লীগ” মূলতঃ পরিচালিত হছ্ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দ্বারা ৷ ফলে তখন তারা কেবল নিজেদের উন্নতি নিয়ে ব্যস্ত ছিল এবং পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলার উন্নয়নের প্রতি তারা ছিল সম্পূর্ন অমনোযোগী ৷দিন দিন পূ্র্ব পাকিস্তানের প্রতি তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ আরও প্রকট হতে থাকে ৷ অর্থনীতি,রাজনীতি,সংস্কৃতি প্রতিটি ক্ষেত্রে এ বৈষম্য ছিল লক্ষণীয় ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের জন্য বেদনাদায়ক ৷পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই “মুসলিম লীগ” এর এই অনৈতিক, অগণতান্ত্রিক আচরণ,দমননীতি,বাংলা ভাষার অবমাননা এ পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সীমাহীন বৈষম্য সৃষ্টির কারনে দলটি তার জনপ্রিয়তা হারাতে আরম্ভ করে এবং তাদের এ দূর্বলতার সুযোগে “মুসলীম লীগ” এর বিরোধীরা আরও ভিন্ন ভিন্ন নাম নিয়ে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে এগিয়ে আসে ৷তৎকালীন সময়ে সেইসব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল : পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি,পিপলস ফ্রিডম লীগ,পাকিস্তান গণতাণ্ত্রিক যুবলীগ,নেজামে ইসলাম,কৃষক-শ্রমিক পার্টি ইত্যাদি৷ সে সময়ে “মুসলীম লীগ” এই বিপর্যয়ে একে আবার পু্ন:জীবিত করতে নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসেন পূ্র্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের মাওলানা ভাসানী, শেরে-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুুল হক ,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান প্রমুখ প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ৷১৯৪৭ সালে “ভারত ও পাকিস্তান” রাষ্ট্রের বিভাজনের পর “সমগ্র পাকিস্তান” এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি যখন এহেন অবস্হায় দাড়িয়ে তখন অপরদিকে “সমগ্র ভারতবর্ষ” এ যে রাজনৈতিক দলটি নেতৃত্বে ছিল , সেটি ছিল ” অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারার দল জাতীয় কংগ্রেস” এবং এ মতবাদে বিশ্বাসী কিছু জনগণ তখন “সমগ্র পাকিস্তান” এর কোনো কোনো অঞ্চলেও দেখতে পাওয়া যায় ৷(চলবে) ৷

ফারহানা আকতার

তথ্যসূত্র : বুকস্ , ইন্টারনেট ৷
লেখক: ফারহানা আকতার, ডিরেক্টর এন্ড এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ইন্টারন্যাশনাল রবীন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিমেম্বার, গবেষক, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক এবং সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ ৷

লেখকের অন্যান্য বই

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩২:৫৩   ৫২৩ বার পঠিত   #  #  #  #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

সাহিত্য’র আরও খবর


সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ২৩ : স্বপন চক্রবর্তী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ২২ : স্বপন চক্রবর্তী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ২১: স্বপন চক্রবর্তী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ২০: স্বপন চক্রবর্তী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ১৯ : স্বপন চক্রবর্তী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ১৮ :স্বপন চক্রবর্তী
প্রণয়কুঞ্জ - গুলশান আরা রুবী
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ১৭: স্বপন চক্রবর্তী
কল্ললিত ঝরণার টানে- শামীমা বেগম
সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ১৬ : স্বপন চক্রবর্তী

আর্কাইভ

16. HOMEPAGE - Archive Bottom Advertisement