বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান

Home Page » জাতীয় » বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান
রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬


বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে জ্বালানি অনুসন্ধানের জন্য এই দরপত্র প্রকাশিত হবে সচিবালয়ে।
এর আগে দুইবার দরপত্র আহ্বান করেও কোনো বিদেশি কোম্পানিকে কাজে আনা সম্ভব হয়নি। এবার সেই ব্যর্থতার শিক্ষা নিয়ে শর্ত আগের চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগবান্ধব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা।

‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে অনুসন্ধান পর্যায়ে ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে উচ্চ সালফার অয়েলের দামের ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্য নির্ধারিত হতো, এখন তা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ হবে তিন মাসের গড় ব্রেন্ট মূল্যের ১১ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি নতুন করে পাইপলাইন ট্যারিফ যোগ করা হয়েছে এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার শর্তে আনা হয়েছে নমনীয়তা।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রমোশনাল প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরের জরিপ তথ্য ও কারিগরি উপাত্ত সংগ্রহ করে দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।
পেট্রোবাংলার পিএসসি পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, “এবার পিএসসিকে আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার বেশি বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে ভালো সাড়া আশা করছি।”
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশে ও বিদেশে রোড শো, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এবারও সফল না হলে তা দেশের জন্য খুব খারাপ হবে।” তিনি আরও বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে এখন গ্যাস অনুসন্ধানের অনেক বিকল্প রয়েছে। তাই ভালো লাভের নিশ্চয়তা না থাকলে তারা এখানে আসতে আগ্রহী হবে না।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অথচ প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ আবিষ্কারে বহুদূর এগিয়ে গেছে। এই পিছিয়ে পড়ার হিসাব বদলাতে তৃতীয়বারের এই দরপত্রই এখন বড় বাজি।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৫:৪৪ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ