রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬

রামিসা হত্যা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ

Home Page » জাতীয় » রামিসা হত্যা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ
রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬


ডিএনএ পরীক্ষায় প্রধান আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে সেএছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি ডিএনএ প্রোফাইলিং পরীক্ষায় প্রধান আসামি সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার তথ্য তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক ইউনিট থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দিনে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে।”

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে তিনি ঘটনার আগে মাদক গ্রহণের কথাও বলেছেন।

মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। শনিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দেয়।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৫:২৩ ● ১৮ বার পঠিত