ঈদের বাজারে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, বাড়ছে জার্সি-পতাকার বিক্রি

Home Page » খেলা » ঈদের বাজারে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, বাড়ছে জার্সি-পতাকার বিক্রি
রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬


ঈদের বাজারে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, বাড়ছে জার্সি-পতাকার বিক্রি

গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও রাজধানীর গুলিস্তানে থেমে নেই মানুষের ভিড়। ঈদুল আজহার কেনাকাটার পাশাপাশি সেখানে এখন স্পষ্ট ফুটে উঠছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ। পোশাকের দোকানের ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমে উঠেছে ফুটপাতজুড়ে জার্সি, পতাকা ও ফুটবল বিক্রির দোকান।

শনিবার রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পোশাক কিনতে আসা অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকার দোকানে ভিড় করছেন। তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যেও ফুটপাতের দোকানে চলছে দরদাম, পছন্দের দল নিয়ে আলোচনা এবং জার্সি বাছাইয়ের ব্যস্ততা।

ফুটপাতের একের পর এক দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। কোথাও ছোট-বড় পতাকা, কোথাও আবার ফুটবল সাজিয়ে রাখা হয়েছে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে। বিক্রেতাদের কণ্ঠে ভেসে আসছে ডাক—“ভাই, বিশ্বকাপের নতুন জার্সি! কম দামে নিয়ে যান!”

ফুটপাতের বিক্রেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ঈদের কেনাকাটায় আসা অনেকেই বাড়তি আগ্রহ নিয়ে জার্সি কিনছেন। তাঁর ভাষায়, “এখন তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকে কিনে রাখছেন। ঈদের পর বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাড়লে চাহিদা ও দাম—দুটোই বাড়তে পারে।”

তিনি আরও জানান, অনেক ক্রেতা নিজেদের পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে থাকা ছোট ভাই-বোন কিংবা বন্ধুদের জন্যও জার্সি কিনছেন।

শুধু ফুটপাত নয়, আশপাশের ক্রীড়াসামগ্রীর শোরুমগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশের রঙিন জার্সি, ফুটবল ও পতাকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানজুড়ে। কর্মীরা ব্যস্ত নতুন পণ্য সাজানো এবং ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সি দেখাতে।

গুলিস্তানের একটি ক্রীড়াসামগ্রীর শোরুমে দীর্ঘদিন কর্মরত সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ব্যবসায় আলাদা প্রাণ ফিরে আসে। “সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি করে,” বলেন তিনি।

একই শোরুমের বিক্রয় প্রতিনিধি মোজাম্মেল জানান, অনেকেই ফুটপাতের তুলনায় উন্নত মানের কাপড় ও টেকসই সেলাইয়ের জন্য শোরুম থেকে জার্সি কিনতে আগ্রহী। তাঁর মতে, “অনেকে শুধু বিশ্বকাপ উপলক্ষে নয়, প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার সময় নিয়মিত পরার জন্যও ভালো মানের জার্সি খোঁজেন।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতে জার্সির দাম মান ও সাইজভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে শোরুমে একই ধরনের জার্সির দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

জার্সির পাশাপাশি গুলিস্তানের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের পতাকার বিক্রিও। ফুটপাতের পাশে বড় বড় বাঁশে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নানা আকারের পতাকা। ছোট হাতপতাকা থেকে শুরু করে বড় আকারের ব্যানারসদৃশ পতাকাও পাওয়া যাচ্ছে।

পতাকা বিক্রেতা হারুন বলেন, ব্যবসা এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি, তবে ঈদের পর বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। তিনি জানান, বর্তমানে ১৩ ফুট পর্যন্ত পতাকা বিক্রি হচ্ছে, আর বড় আকারের পতাকা চাইলে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।

কাপড়ের ধরন অনুযায়ী পতাকার দামও ভিন্ন। সার্টিন কাপড়ের পতাকা ২০০ টাকা থেকে শুরু হলেও বাংলা কাপড়ের পতাকা পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায়। বড় আকারের কিছু পতাকার দাম ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

গুলিস্তানে কেনাকাটা করতে আসা অনেকের কাছেই ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের আবেগ। তরুণ ক্রেতা সাইফুল সুমন প্যান্ট কিনতে এসে জার্মানির জার্সি হাতে নিয়ে ফিরছিলেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “ঈদের কাপড় কিনতেই এসেছিলাম, কিন্তু জার্সিটা দেখে আর না নিয়ে থাকতে পারলাম না।

বাংলাদেশ সময়: ১১:১৭:৫০ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ