ভাইফোঁটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসব - পবিত্র সরকার

Home Page » ফিচার » ভাইফোঁটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসব - পবিত্র সরকার
রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১



 ভাইফোঁটা

ভাইফোঁটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসব। এই উৎসবের পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান মাসের শুক্লাদ্বিতীয়া তিথিতে (শ্যামাপূজার দুই দিন পরে) এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালি হিন্দু পঞ্জিকা অনুযয়ী,এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ২য় দিনে উদযাপিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের ১ম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে।পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত।

সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ নেপালে ও পশপশ্চিমবেঙ্গর দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে। সেখানে বিজয়াদশমীর পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব।

এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। কথিত আছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম তার বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তার বোন সুভ্রদার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তার কপালে ফোঁটা দিয়ে তাকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়।

ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ছড়া কেটে বলে- “ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিচ্ছে এক বোন ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥

এইভাবে বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনা করে। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাওয়ায়। ভাইও বোনকে কিছু উপহার দেয়।

অনেক সময় এই ছড়াটি বিভিন্ন পরিবারের রীতিনীতিভেদে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। অতঃপর, বোন তার ভাইয়ের মাথায় ধান এবং দুর্বা ঘাসের শীষ রাখে। এই সময় শঙ্খ বাজানো হয় এবং হিন্দু নারীরা উলুধ্বনি করেন। এরপর বোন তার ভাইকে আশীর্বাদ করে থাকে (যদি বোন তার ভাইয়ের তুলনায় বড় হয় অন্যথায় বোন ভাইকে প্রণাম করে আর ভাই বোনকে আশীর্বাদ করে থাকে)। তারপর বোন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দ্বারা ভাইকে মিষ্টিমুখ করায় এবং উপহার দিয়ে থাকে। ভাইও তার সাধ্যমত উক্ত বোনকে উপহার দিয়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। পশ্চিম ভারতের ভাইবিজ একটি বর্ণময় অনুষ্ঠান। সেখানে এই উপলক্ষে পারিবারিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্রে মেয়েদের ভাইবিজ পালন অবশ্যকর্তব্য। এমনকি, যেসব মেয়েদের ভাই নেই, তাদেরও চন্দ্র দেবতাকে ভাই মনে করে ভাইবিজ পালন করতে হয়। এই রাজ্যে বাসুন্দি পুরী বা শ্রীখণ্ড পুরী নামে একটি বিশেষ খাবার ভাইবিজ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করার রেওয়াজ রয়েছে।

ভাইফোঁটার মাধ্যমে ভাই-বোনের মাঝে সূদুর সম্পর্ক স্থাপন হয়,যেসব ভাইদের বোন নেই তারা বোন বানিয়ে ভাইফোঁটা টিকা নেয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৪:৪৫   ৪৪ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ফিচার’র আরও খবর


A SYMBOL OF FRIENDSHIP;Turkish Edition of PEACE AND HARMONY-H E Mustafa Osman Turan
প্রাইজবন্ড সত্যি সম্পদের এক গুপ্তধন!! - যার সন্ধান দিবে প্রাচুর্য্য
ভাইফোঁটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসব - পবিত্র সরকার
ইচ্ছেরা- রায়হান রাতিশ
ভাঙ্গায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীর উঠান বৈঠক
ভাঙ্গায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত
ভাঙ্গায় জেলা মিনিবাস মালিক গ্রুপের সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা
ভাঙ্গায় মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তি
ভাঙ্গায় বিলের মধ্যে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ
ভাঙ্গায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

আর্কাইভ

16. HOMEPAGE - Archive Bottom Advertisement