
রঙলেপার পিকনিক কাম ভ্রমণ
প্রতি বছর রঙ-লেপা ফোরামের পিকনিক হয়ে থাকে। তবে এটাকে পিকনিক বলার চেয়ে ভ্রমণ বলাই বেশি সমীচীন মনে করি। যারা এখনও চাকুরি করছেন, তাদের সুবিধার্থে সাধারণত বন্ধের দিন গুলোকে নির্ধারন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া, রঙলেপার বিষয়ে করণীয় কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য এটা প্রয়োজন হয়। যারা যারা সঙ্গ দিতে পারেন, শুধু তারাই সঙ্গী হয়ে থাকেন, যদিও সকল সদস্য অবারিত থাকেন। এটা অনেকটা বিশেষ উপলক্ষে হয়ে থাকে। যেমন একাধিক বার লটকনের সময় লটকনের জন্য বিখ্যাত স্থান নরসিংদী যাওয়া হয়েছিল। নিজ নিজ ব্যয়ে সবাই একত্রিত হয়ে এই সুস্বাদু ফল সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন। যতটুকু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন তারও কিছু কিছু অন্যদের মধ্যে বিতরন করে তারা ধন্য হন। এর উদ্দেশ্য একধিক। একাধারে বিনোদন, আকর্ষণীয় বস্তু সংগ্রহ করণ ও গ্রুপের সমস্যাদি নিয়ে মিটিং করা। নরসিংদীতে দর্শনীয় স্থান আছে অনেক। তন্মধ্যে উয়ারী-বটেশ্বর পুরাকীর্তির নাম উল্লেখ করা যায়। সেখানে আবিস্কৃত হয়েছে অন্যতম প্রাচীন নগর। প্রায় ২৫০০ বছরের প্রাচীন এই নগরীতে আছে পুরাতন দূর্গ, পাকা রাস্তা, লৌহযুগের ব্যবহৃত তৈজষপত্র ও প্রত্নবস্তু। যেমন-পাঞ্চ-মার্ক কয়েন ইত্যাদি। এছাড়াও সেখানে রয়েছে অসম রাজার গড়, পারুলিয়া শাহী মসজিদ,বালাপুর জমিদার বাড়ি, লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, ও পবিত্র কুরআন শরীফের বঙ্গানুবাদকারী ড. গিরিশ সেনের ভিটা।
এ ছাড়াও লিচুর সময়ে সুদুর দিনাজপুর গিয়েছেন ভ্রমণ পিপাসুগণ। এনেছেন খুব সুন্দর রসালো লিচু। নিজেরা তৃপ্ত হয়েছেন এবং সাধ্যমত অন্যদেরকেও তৃপ্ত হবার সুযোগ দিয়েছেন। আমরা শুধু পোস্ট দেখে, ছবি দেখে রসনা নিবৃত্ত করেছি। পরিব্রাজকগণ রাজশাহীতে গিয়েছেন। সেখানকার বাগান থেকে বিখ্যাত ও সুমিষ্ট আম সংগ্রহ করেছেন। সব স্থানে আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিগণ একাজে যথেষ্ট সহায়তা করে থাকেন। গিয়েছেন পদ্মাসেতুর নীচে। তাজা ইলিশ মাছ ধরা উপভোগ করেছেন এবং তাৎক্ষণিক ষেখানেই ভাজি করে রসনা তৃপ্ত করেছেন। গিয়েছেন সুন্দর বন। উদ্দেশ্য মধু আহরণ ও বাঘ দর্শন করা। আবার প্রোগ্রাম করেও স্থগিত করা আছে ইলিশ ঘাট অভিযান। ”ইলিশ ঘাট ভোলা ভ্রমণ” শিরোনামে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা আছে। অস্থায়ী এই প্রকল্পটি ভ্রমণ সমাপ্ত না হওয়া অবধি চালু থাকবে বলে ধারনা করা যায়। পরে সুবিধাজনক যে কোন সময়ে সেটা করা হবে বলে আশা করি। তবে জোৎস্না রাতে ভ্রমণের আশাই ব্যাপক ভাবে লক্ষ্য করা গেছে। সুবিধাজনক দিনের অপেক্ষায় আছেন ভ্রমণ পিপাসুগণ। ইচ্ছে করলে আপনিও সঙ্গ দিয়ে সেটা উপভোগ করতে পারেন। সকল কাজের পথপ্রদর্শক, ও চিন্তক ভ্রমণগুরু খ্যাত সহকারী মহাব্যবস্থাপক আলতাফ হোসেন তালুকদার। একাজে ব্যধি-জরা ও সর্দি কাশিতে আক্রান্ত সম্মানিত বয়স্কগণের হাত ধরে অভিযানে যেতে সহায়তা করেন আমাদের তরুন গ্রুপটি।
রঙলেপার আরও কয়েকটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ আছে। প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে সংগঠন সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা হয়ে থাকে তার মাধ্যমে। অন্যথায় শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। যেমন রঙলেপা ভ্রমন আলোচনা, রঙলেপা নির্বাহী কমিটি, রঙরেপা আলাপন-১, রঙলেপা উপদেষ্টা পরিষদ,ইত্যাদি। আছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। যেমন TOP MANAGEMENT RONGLEPA. তবে এর কিছু আছে সাময়িক ও কিছু স্থায়ী।
লেখালেখির স্থবিরতা নিয়ে অস্থিরতা দেখা যায়। এটা অতি সাধারণ চাহিদা। তবে সাধারণ ব্যাপারও। কারন লেখালেখি ইচ্ছে করলেই হয়না। মনের মধ্যে চিন্তা আসতে হয়, লেখার উপাদান, প্লট ইত্যাদি অনেক কিছু মনে জাগ্রত হতে হয়। লেখার মতো অবসর থাকতে হয়। আবেদন নিবেদন যখন ইচ্ছে লেখা যায়। কিন্তু সাহিত্য নয়। প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকগনও তা পারতেন না। তাছাড়া বর্তমান জীবনধারা হয়েছে খুব গতিশীল। আগে মানুষ হেঁটে হেঁটে আট/দশ মাইলও অনায়াসে যেতে পারতো। আমি প্রতিদিন আট মাইল হেঁটে কলেজে গিয়েছি। কিন্তু এখন এটা অকল্পনিয় ও অবাস্তব। আধা মাইল দুরে যেতে যানবাহনের জন্য আধাঘন্টা সময় ব্যয় করি। তারপরও সাধারণ প্যাডাল চালিত রিক্সা চলবে না, লাগবে অটো, ব্যাটারী চালিত অথবা সিএনজি চালিত। অর্থাৎ গতি বাড়াতে হবে। বিশ্ব হয়েছে এখন খুব গতিশীল। আর নতুনের মাঝে বিলুপ্ত হয় পুরাতন। সেই সুত্রে পুরাতন হচ্ছে সেকেলে , অচল। নরসিংদীতে আবিস্কৃত ওয়ারী-বটেশ্বর পুরাকীর্তির সংগৃহীত ছবি নিচে দেওয়া হলো। ( চলবে )
