আমরা একত্রে পাঁচটি লাইনের কোন লেখা পড়তে এখন অনীহা প্রকাশ করি। বই সম্পূর্ণ পড়া ,পত্রিকা সম্পূর্ণ পড়া এখন আর হয়না বললেই চলে। অনলাইন, ইন্টারনেট, গুগুল ইত্যাদিতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কষ্ট করে বড় লেখা তৈরির জন্য যেমন সময় প্রয়োজন, তেমনই পাঠকদেরও তা পড়ে দেখার জন্য সময়ের প্রয়োজন। তাই বলে লেখালেখি বন্ধ হয়ে যাবে ? এমনটাও নয়। বইমেলা কি কখনও বন্ধ হবে ? না। বই কেনাও বন্ধ হবে না। হয়তো সাথে সাথে পড়া হবে না। বই সংরক্ষণ করা হবে। পরে সময় মতো পড়া হবে। আমরা পড়তে যারা অল্প-বিস্তর অভ্যস্থ, তারাও কতজন লেখকের বই পড়েছি? রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র, নজরুল কিংবা সৈয়দ শামসুল হক ,হুমায়ুন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, শামসুর রেহমান, আহমেদ ছফা, কবি আল মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস,- কারও পূর্ণ লেখা সবাই সমাপ্ত করেছি এমনটি নয়। তবে হয়তো সংগ্রহে আছে অনেকেরই। অনেকে এখনও বই কিনতে মেলায় যান।
যাই হোক, বাস্তবতার বাইরে আমরা যেতে পারি না। তাকে অতিক্রম করা যায় না। কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ এখন নেট দুনিয়ায় বিচরণ করছে। অস্থিরতা বেড়েছে। দু’মিনিট সময় মোবাইল ফোন বিহীন চলে না। একজন অতিসাধারণ শ্রমজীবী মহিলাকেও দেখেছি ঘর্মাক্ত শরীরে কোমরের কোচ হত মোবাইল ফোন বের করে কথা বলে নিচ্ছে। বাসায় কাজের মহিলা পাওয়া যায় না বললেই চলে। কারণ এখন গার্মেনটস সহ অনেক স্থানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে মোটামোটি। বাসার কাজের মহিলাগনও বলে , দরকার হলে একটা মিসকল দিয়েন। আগে আত্মীয় স্বজনের কাছে চিঠি লিখলে দু,সপ্তাহ পরে সে চিঠি পেয়ে উত্তর লিখতো। তারপর সেই চিঠির উত্তর লিখলে তা পেতে আরও সপ্তাহ দুই চলে যেতো। তবুও মানুষের কোন উৎকন্ঠা দেখা যেতো না। আর এখন বাসা থেকে কোন জায়গার উদ্দেশ্যে কেহ গেলে প্রতি ঘন্টায় কল দিয়ে অবস্থান জানাজানি হয়। অন্যদিকে আবার মিথ্যা-সত্য মিশিয়ে এক সাথে পাঞ্চ করতেও কেহ কেহ পারঙ্গম। উত্তর দিকে গেলে পছন্দের কল না হলে বলে দেয় যে, আমি দক্ষিণে অবস্থান করছি। কারও কারও ব্যস্ততা এতো বেশি দেখা যায় যে, ঘাড় দিয়ে কানের কাছে মোবাইল চেপে ধরে দুহাতে কাজ করে যাচ্ছে , তবুও কাজ ফুরায় না, কথাও ফুরায় না। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতে বলতে চলন্ত ট্রেনের নীচে চলে যাচ্ছে, তবুও ব্যস্ততার শেষ নেই। সময় থাকলে এবং সামান্য পড়ার অভ্যেস থাকলে তাও মোবাইল দিয়ে সেরে নিচ্ছে। গ্রুপের সৃষ্ট লম্বা চওড়া সাহিত্য পড়ার ফুসরত কোথায়? তবুও লিখতে হবে, লেখার অভ্যেস করতে হবে এবং পড়তে হবে। আজ না হোক কাল, কাল না হোক পরশু পড়া হবেই। যার বাড়িতে বইয়ের গ্রন্থাগার আছে তিনি একজন গর্বিত মানুষ। বই সব পড়ে ফেলতে হবে এমন নয়, তবে যে কোন কিছুর সহায়তার জন্য বই প্রয়োজন, রেফারেন্সের জন্য বই প্রয়োজন, অথবা নিজের জানার জন্য বই প্রয়োজন। পেশাজীবী ব্যক্তিমাত্রই চেম্বারে একটা সুসজ্জিত লাইব্রেরী রাখেন। যেমন ডাক্তার, শিক্ষক বা উকিল। এটাই তাদের মনের শক্তি। এতো অস্থিরতা, তাই বলে একুশের বই মেলা কি বন্ধ হবে ? তার আদলে এখন সারা দেশেই প্রায় বই মেলার আয়োজন হয়। ক্রমান্বয়ে তার কলেবর বেড়েই চলেছে। লোক সমাগমও বাড়ছে। বই মেলায় যাওয়া একটা অভ্যাস হয়ে গেছে অনেকের নিকট। আমিও চেষ্টা করি যেতে। নেটওয়ার্ক দুনিয়ার ব্যস্ততা এতটুকু ম্লান করেনি বই মেলাকে। বই মেলা কি ভাবে শুরু হয়েছিল ? গোড়ার ইতিহাস তেমন উজ্জ্বল ছিল না। সেটা জানলে বুঝতে অসুবিধে হবে না যে, বই মেলার ব্যাপ্তি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। ইতিহাসটি জানা প্রয়োজন। ইতিহাসটি ছিল সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ ( চলবে )