শুক্রবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তঃনগর

Home Page » আলিফের চটি গল্প » আন্তঃনগর
শুক্রবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০২৬


মোজাফফার বাবু

দু’ধারে জমি জিরাত সবুজে শ্যামল প্রান্তর
সারি সারি দেবদারু জাম জামরুল, সুনসান পথঘাট
সবুজের সাথে করে ভাব হাওয়ার সাথে করে মাখামাখি
হৃদয়ের সাথে করে কত না মিতালী বিষ্ময়ে ভরা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি
নয়নাভিরাম সারি সারি কদম মেহগনি মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি
আনন্দঘোন পরিবেশ মেঠো পথের মত এঁকেবেঁকে ছুটে চলে
সমান্তরাল রেললাইন
ঐ দূরে মেহগনি কদম পত্র পল্লবে ঘেরা দীঘিতে
আবহমান ধারায় উদোম শরীরে বধুয়া স্নান করে।
মুখে তার মধু -মিষ্টি বধূ - ভেজা আঁচলে হেলেদুলে কলসি কাঁখে
সবুজ শ্যাামল পথ ধরে যায় আপন নীড়ে…
প্রচান্ড তাপদাহ দুরান্ত বালক জলকেলি খেলে
চোখের সাটার খুলে কামুক বখাটে ছেলে চেয়ে চেয়ে থাকে…
থেমে থেমে চলে ওরা আঁকাবাঁকা পথে
ঝিক ঝিক করে আন্তঃনগর ছোটে
নয়নাভিরাম বিচিত্র প্রয়াসে হাটে মাঠে খালে বিলে
দিঘির কালো জলে অপ্সরা সুন্দর খোলসে পুঁটি ভাসে
শাপলা শালুক সাথে বসে মজমার আসর
মগ ডালে- চাতক পক্ষী ওতপেতে থাকে -দ্বিধা দন্দে ভোগে
তারপরও …বুবক্ষো জীবনের খাতা শুন্য দেখে
ছোঁ দিয়ে নিয়ে যায় ধরে –
ভেঙ্গে জায় মেলার হাট - মজমার আসরের রঙ রস
আন্তঃনগর ছুটে চলে থামে আবার চলে।
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক রুম ঝুম রুম ঝুম শব্দে
বিবাগী মন ছুটে চলে ঘোর ঘোর ঘোরে ছুটে চলে
নিষিদ্ধ পল্লীতে অজানা কোন রাজ্যে …
দোলায় দোলে দোলনি ছুটে চলে মন ময়ূরী
পেছন থেকে পেছন আরো পেছনে উদাসী মন ছুটে যায়
সেই চকমকে সুন্দরি রূপবতী গুণবতী অপ্সরা বাসন্তী
টোল ফেলা হাসি- মিষ্টি ভাষী -নান্দিনিক সুন্দরী
পড়ন্ত বেলায় সোনা রোদে বাসন্তী
রঙ্গ মহলের রঙ্গীনি - বেদনার কালো ছায়ায় ডাকত আমায়
মন ময়ূরীর নাচের তালে দুরু দুরু করে - কেঁপে উঠতো মন ও প্রাণ
কামনা-বাসনা শিরা উপশিরায় হৃদপিন্ডের সঞ্চালন
দ্বিধাদ্বন্দ্বে ইন্দ্রিয় অজানা আতঙ্ক বারবার গতিরোধ করতো
কি বেদনা দায়াক পেশা বারবনিতার–
তপ্ত হাওয়ায় বৈশাখের মাতাল ঝড়ে বাজতো ছিন্ন বিনা
রক্তক্তো ঘুঙুরের আওয়াজ - কেঁপে উঠতো -আকাশ বাতাস নদী বৃক্ষ পাহাড়
ঠোকরে ঠোকরে জর্জরিত করত মিচকে শকুন আর কালশাপ
কাম্রত আদিম হায়ই- ব্যস্ত সবাই- শিকার তোলায়
মিছে আধুনিক নগর সভ্যতার সুধি সমাজ
চার দেয়ালের কি কঠিন বাস্তবতা
জীর্ণ ঘরের চিলা কোঠায় আহাজারি করতো দোয়েল শ্যামা
আর রজেস পাখি ক্ষোভে দুঃখে উত্তর মেরু অজানা শাখায় নিরুদেশ
সব যেনও ধোঁয়াশা কুয়াশার ধোঁয়াভানরত
ঘোর ঘোর ঘোরে ঘোর যায় কেটে
আচমকা তনময় ভেঙে দেখি সর্পের একেঁবেঁকে
ঝিকঝিক করে চলে রেলগাড়ি
দূর থেকে বহু দুরে অচেনা অজানা পথে
বিচিত্রময় পৃথিবী রূপে রসে পঞ্চমুখ প্রকৃতি
গগনে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘ ভেলায় ভাসে
সাদা সাদা বক শিস দিয়ে যায় আকাশে
মেঘের উপর মেঘ ফুঁড়ে স্বর্ণ ঈগল ভাসে
থেমে থেমে চলে ওরা আঁকাবাঁকা পথে
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক করে আন্তঃনগর ছোটে
মাঠ ঘাট নগর বন্দর প্রান্তর ছুটে
রুমঝুম রিমঝিম ঝরে -হাঠে মাঠেঘাটে পত্র পল্লভে
শ্রাবণের ঝর্ণা অঝোরে ঝরে
চৌচির জমি-জিরাত শীতল পরশ করে সৃষ্টি
হাকডাক ছোড়ে ফেরিওয়ালা নেয় দৃষ্টি
নিয়ম-নীতির করেনা তোয়াক্কা আটেঁ ফকির ফিন্দি
বাদাম চানাচুর মুড়ি সিদ্ধ ডিম চকলেট মিমি
কসায় শাসায় মেজাজ দেখায়
স্বাভাবিক পণ্যের অস্বভাবিক দাম হাকায়
ভাবটা এমন বগীটা তার- আমরা সবাই যাযাবর
আদব কায়দা আছে কি তার নেয় জবাবদিহিতা
ইঞ্জিন আর ক্রসিং ক্রসিং আর ইঞ্জিন ভৈরবে সময় করে কালক্ষেপণ
অপেক্ষার পর অপেক্ষার প্রহর - যন্ত্রনায় হয়ে উঠে কাতর
সবাই হয়ে ওঠে- এডিটর আর সম্পাদক
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নয় একজন - সবায় অধ্যাপক
সুধীজন - কারোর চেয়েও কেউ কম- সবাই সমানে সমান
ইউক্রেনে আগ্রাসী ন্যাটোর বাড়াবাড়ি - ফিলিস্তিনের আহাজারি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক উষ্ণতায় পানির বৃদ্ধি
রেফারেন্স বিবিসি, আল-জাজিরা, র্র‌য়টার্স্‌ বিটিভি
চলছে টকশো বেজায় ভারী- সবাই জমিদার মহাশয় মহারথী
কেউ কারো কাছে করে না নতি
টেনেটুনে চলে গন্তব্য হয়ে উঠে আকাশকুসুম।
ফুটবে কখন কমলাপুরের ফুল ?
ঝিক ঝিক করে আন্তঃনগর ছোটে-থামে আবার চলে - এ যেন কচ্ছপের গতি
কতনা চিত্রকল্প ভাসে অবারিত স্মৃতি পটে
আটঘাট শ্যামল প্রান্তর ছায়ায় করে ধারণ
বিস্তীর্ণ দুপাড়ের মানুষ দুপারে ছায়াবাড়ি ঘর
পারতো না মাড়াতে কেউ আর—
এখন নিরশার বালুচরে আশার প্রদীপ জলে
বর্ণিল আলোয় আলোকিত করে যমুনা লালন সেতু
বাড়িয়েছে নতুন গতি–একে অপরের আত্মীয় একই তরণীর যাত্রী
মহামিলন করেছে নতুন সন্ধিক্ষণ
থেমে থেমে চলে ওরে আঁকাবাঁকা পথে
ঝিক ঝিক করে আন্তঃনগর ছোটে
মিষ্টি রোদ দোল খায় জানালায়- শ্যামল ছায়াই আর মগডালে চূড়ায়
বাঁজে ঢাক ঢোল সানাই।
ভ্রাতৃত্ব সমৃদ্ধি - একে অপরের সহযাত্রী
চির দোলায় দোলায় জানালায় অবয়ব প্রতিবিম্ব ছড়ায়
অকস্মাৎ বগির ভিতর হাঁকডাক করে চিৎকার
ছোঁ দিয়ে সাধের আইফোন নিয়ে যায় শকুনে
ভেসে যায় চোরাবালু চর ধোঁয়াশায় কুয়াশায়
মিছে মিছে সান্তনা আরো বাড়ে যন্ত্রণা
দিনমনি যায় চলে মিষ্টি সোনা রোদ ঝরে
প্রকৃতি সাজে নান্দনিক বর্নিল সাজে
শুভ্র মেঘের নীল আকাশে ভাসে
আঁধারের বুক চিরে জোনাক পোকারা বাজায় নুপুর
আনন্দ হয় তুমুল বেজে ওঠে কমলা পুরের ফুল

কবি :মোজাফফার বাবু

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫০:৪৫ ● ১৭ বার পঠিত