বুধবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বেতন কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পরবর্তী সরকারের উপর: অর্থ উপদেষ্টা

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » নতুন বেতন কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পরবর্তী সরকারের উপর: অর্থ উপদেষ্টা
বুধবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২৬


নতুন বেতন কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পরবর্তী সরকারের উপর: অর্থ উপদেষ্টা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তার চাপ পরবর্তী সরকারকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অর্থের সংস্থানের উপায় সরকারকেই বের করতে হবে। নতুন বেতন কাঠামো অনেক দিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। তবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যদি মনে করে এর দরকার নেই, তাহলে তারা এর বাস্তবায়ন নাও করতে পারে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতার সুপারিশ করতে গঠিত পে কমিশন আজ বুধবার বিকেল ৫টায় প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা নিজে এবং অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর মাত্র ২০ দিন আছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা– জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে কেন? বাস্তবায়ন হবে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী। কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন হয় না। এ বিষয়ে কয়েকটি কমিটি রয়েছে। তারা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে।’

এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। এতে কী বোঝা যায় যে, এই সরকার বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে না– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি দিয়ে যাওয়াই একটি বড় বিষয়। তবে বর্তমান সরকার বাস্তাবয়ন করবে না– এমনটিও বলেননি অর্থ উপদেষ্টা।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। জানা গেছে, পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ খাতে আরও প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।

কত বাড়তে পারে বেতন
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আর পুরো কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা। এটি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা বেতন থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১: ৮ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের দিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।

গত ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে পে কমিশন গঠন করা হয়। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন ও ভাতা পান। সামরিক বাহিনী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পরে তা স্থগিত হয়। তবে গত জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালের জুলাই থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও চালু রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন বলে আশা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন বলে তিনি আশা করেন। পে কমিশনের চেয়ারম্যান নিজেও জানিয়েছেন, কমিশন অত্যন্ত বাস্তবধর্মীভাবে কাজ করেছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেশের আর্থিক সামর্থ্য, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে যতটা সম্ভব ও যতটা বাস্তবসম্মত, ততটাই করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির বিষয়গুলোও সুপারিশ প্রণয়নের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বেতন বৃদ্ধি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা– এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাজারে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় বেতন বৃদ্ধি নির্বাচনী প্রভাব ফেলতে পারে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি করনীতি-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন গবেষণা সংস্থা পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার। ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার অনেক কিছুই ওই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে। নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তাও এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩২:৪২ ● ১৭ বার পঠিত