শনিবার ● ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
নির্বাচনের আগে উচ্চাভিলাষী ইশতেহার, বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » নির্বাচনের আগে উচ্চাভিলাষী ইশতেহার, বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?![]()
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এতে বছরে লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। জামায়াতে ইসলামী একদিকে কর-ভ্যাট কমানো এবং অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো, পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনাসুদে ঋণ, বিনা খরচে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এইসব প্রতিশ্রুতি পূরণের বিপুল ব্যয় কোথা থেকে আসবে–তা এখনও দলগুলো স্পষ্ট করেনি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের কাঠামোগত দক্ষতা বাড়লে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে সরকারের যে পরিমাণ অতীত ঋণ রয়েছে, তাতে এই ব্যয় মেটানো কঠিন। কারণ, নতুন সরকারকে আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপে পড়তে হবে। এই অবস্থাতে নতুন করে ঋণ নেওয়া কঠিন হবে। সে কারণে এসব প্রতিশ্রুতি পূরণও কঠিন হবে।
আবার বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই পরস্পরের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জামায়াত এবং তাদের জোট শরিক এনসিপি নেতারা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে।
চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত দুই কোটি পরিবারকে দেওয়া সম্ভব; যার মাধ্যমে কার্ডধারী নারীদের মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ বা খাদ্যপণ্য দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের খরচ কোথা থেকে আসবে–প্রশ্নে বিএনপি প্রধান বলেছেন, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তায় ১৩৮ রকমের ভাতা রয়েছে। যাদের যে ভাতা দরকার, তা পাচ্ছে না। এই সম্পদকে এক জায়গায় নিয়ে আসব। ১৩৮টি ভাতার অনেকগুলোর প্রয়োজন নেই।
একই জবাব দিচ্ছে জামায়াতও। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই খাতের বরাদ্দে বড় অংশ দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়। জামায়াত তা বন্ধ করবে। এতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। জামায়াত যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা দুর্নীতি বন্ধের মাধ্যমে সাশ্রয় করা টাকা দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক ইশতেহার না দিলেও, যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। দলগুলো কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে; যা ভালো লক্ষণ। তবে এগুলো বাস্তবায়নে জন্য সরকারের দক্ষতা প্রয়োজন। বর্তমান আমলাতন্ত্রের তা নেই।
বিএনপি ও জামায়াত যেভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বলছে, তা বাস্তবসম্মত কিনা প্রশ্নে মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, দেশে অর্থনীতি যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে রাজনৈতিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে। সরকারি বিনিয়োগ পুনর্বণ্টন একটি পথ হতে পারে। মেগা প্রকল্প বা অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত করে, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব। এ জন্য রাজনীতিক এবং আমলাদের দুর্নীতির যে চক্র রয়েছে, তা ভাঙতে হবে।
জামায়াত কর ও ভ্যাট কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা–প্রশ্নে মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, কাঠামো ঠিক হলে হার কমিয়েও কর বাড়ানো সম্ভব। তবে এই সংস্কার ছয় মাস, এক বছরে সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় লাগবে। তখন কিন্তু নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ সম্ভব হবে না।
বিএনপির গুরুত্ব আট খাতে
বিএনপি যে ইশতেহার প্রণয়ন করছে, তাতে দলটির ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয় থাকবে। নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ আট খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। ভোটের মাঠে খাতভিত্তিক প্রচার চালাবে। বড় আকারের ইশতেহার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না– এ অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপি মূল বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ ইশতেহার ঘোষণার আগে ভোটের প্রচার থেকে তুলে ধরছে। যেমন ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড, কীভাবে কৃষকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে এসে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়।
২০২৩ সালে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় অবাধ নির্বাচন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে এগুলো বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে।
বিএনপি নেতারা এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘পজিটিভ নেশন’ গড়ার ইশতেহার দেবেন তারেক রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, ইশতেহার হবে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার, গণমানুষ ও অর্থনৈতিক মুক্তিকে লক্ষ্য রেখে। ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের গণমানুষের অর্থনৈতিক-গণতান্ত্রিক মুক্তি, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও সংসদীয় ব্যবস্থার আমূল বৈপ্লবিক সংস্কার হবে। গণতন্ত্র শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করবে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, আট খাতে প্রতিশ্রুতি ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কারণ, বিএনপি কার্ডের ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা কখনও দেখা যায়নি। এগুলো যদি বাংলাদেশে প্রবর্তন করা যায় এবং তা যদি সামাজিক খাতে এক ধরনের অগ্রগতি অর্জন হয়, তাহলে সামাজিক ক্ষেত্রে এক বিরাট সুযোগ তৈরি করবে।
ভোটের মাঠে আলোচিত ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বিএনপি কৃষি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটি বলছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তি পাবেন। পাশাপাশি সহজে ঋণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।
সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সারাদেশে শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলবে। দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা খাত, প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
শিক্ষা খাতে বিএনপি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে টিমওয়ার্ক, পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তোলার ওয়াদা থাকবে বিএনপির ইশতেহারে। প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেবে দলটি। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, হাতে-কলমে প্রযুক্তি শিক্ষা, শিল্প-কারখানায় সরাসরি ট্রেনিং এবং আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে বিএনপি।
পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২৫ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী খনন ও পুনর্খনন ছাড়াও বিএনপির বড় ওয়াদা প্রতি বছরে দেশে-বিদেশে ২০ লাখ চাকরি তৈরি। দলটি বৈষম্য ও দলীয় প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বচ্ছ নিয়োগের সঙ্গে সরকারি চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে বিএনপি। লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু, কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং সুলভ হারে ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা ও সরঞ্জাম সহায়তার ওয়াদা থাকছে বিএনপির। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং প্রথা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে দলটি।
খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের নেতাদের আর্থিক সুবিধা ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকছে বিএনপির ইশতেহারে।
দুর্নীতি বন্ধসহ ছয় খাতে জামায়াতের অগ্রাধিকার
সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থাসহ ছয়টি ভাগে ৩১ দফা নীতি ঘোষণা করেছে জামায়াত। খাতওয়ারি বিস্তারিত থাকবে জামায়াতের ইশতেহারে। যা নির্বাচনের আগে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাচন পরিচালন কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম। তিনি সমকালকে বলেন, এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় যেতে পারলে দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
জামায়াত কর ও ভ্যাট কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা– প্রশ্নে দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, উচ্চ করহারের কারণেই মানুষ কর দিতে অনীহা বোধ করেন। এ ছাড়াও ব্যাপক ও কাঠামোগত দুর্নীতি রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারলে তা বন্ধ করা হবে। ফলে করহার কমলেও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে। ফলে জামায়াত যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
জেলায় জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল, পাঁচ বছরের কমবয়সী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, গর্ভধারণ থেকে সন্তানের দুই বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। ব্যয় কীভাবে আসবে– এর জবাবে শুক্রবার দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে চুরি করে, ওগুলো ওদের পেট থেকে বের করে আনব। আর আগামী দিনে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না।’
জামায়াতের অগ্রাধিকারের প্রথমে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দলটির প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে– ট্যাক্স ও ভ্যাট ধাপে ধাপে কমিয়ে ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ। স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু, যাতে এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একই সঙ্গে থাকবে। তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বৃদ্ধি করা হবে না। বন্ধ কলকারখানা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে চালু করা, সেখানে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা থাকবে। লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা থাকবে।
শিক্ষা খাত সম্পর্কে জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, স্নাতক শেষে পাঁচ লাখ ডিগ্রিধারীদের মাসে দুই বছর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। মেধার ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা ঋণ দেওয়া হবে। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য প্রতিবছর ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষা ঋণ পাবেন। বদরুন্নেসা, হোম ইকোনমিক্স এবং ইডেন কলেজকে একীভূত করে পৃথিবীর বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
কর্মসংস্থান ও তারুণ্যের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ এবং প্রতিটি জেলায় ‘জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫০ লাখ চাকরি নিশ্চিত করা হবে। নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। মোট ৭০ লাখ চাকরি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে দলটি।
২০৩০ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে ২০ লাখ চাকরি তৈরি, ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটিতে রপ্তানি ৫ বিলিয়নে উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে।
চাকরি কীভাবে তৈরি করা হবে– প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ দক্ষ করলে ৭০ লাখ চাকরি তৈরি করা কঠিন বা উচ্চাবিলাসী প্রতিশ্রুতি নয়। ক্ষমতায় গেলে জামায়াত বাস্তবায়ন করে দেখাবে।
এনসিপির অগ্রাধিকারে কর্মসংস্থান
এনসিপির ‘গিগ ইকোনমি’ খাতে ৫০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে। শ্রমজীবীদের মৌসুমি বেকারত্ব রোধে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তায় ‘জাতীয় কর্মসংস্থান গ্যারান্টি’ আইন প্রণয়নের ওয়াদা থাকবে তরুণদের দলটির ইশতেহারে।
কারিগরি শিক্ষার বিস্তৃতি ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংসংস্থান সৃষ্টি, প্রায়োগিক দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ছয় মাসের ফ্রিল্যান্সিং বুটক্যাম্প ও ২০ হাজার টাকার ডিভাইস ভাউচারের মাধ্যমে পাঁচ বছরে ‘ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সিং’ ও ‘গিগ ইকোনমি’ খাতে ৫০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান, বিনামূল্যে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ বছরে অন্তত ২০ লাখ তরুণ-তরুণীকে জাপান, কোরিয়াসহ অন্যান্য বয়স্ক জনসংখ্যাবিশিষ্ট ও শ্রমঘাটতিগ্রস্ত দেশে দক্ষ অভিবাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এনসিপি।
‘ম্যানুফ্যাকচার ইন বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ‘তিন দিনে জাহাজীকরণ’ সক্ষমতা অর্জন, রপ্তানি অর্ডারভিত্তিক ‘বিনা শুল্কে কাঁচামাল’ সুবিধা এবং ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’– এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভর করে বার্ষিক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে এনসিপির ইশতেহারে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৭:০৬ ● ১২ বার পঠিত