মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

Home Page » জাতীয় » নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার
মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

আর মাত্র একদিন পরই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ মঙ্গলবার সকালে শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন উপলক্ষে এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, আনসার সদস্যরা যৌথ বা এককভাবে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরেশোরে শুরু করেছে।

যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে সারা দেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে তারা। সন্দেহ হলেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে বাহনসহ চালক ও আরোহীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে গোয়েন্দারাও। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ২৬ হাজার ৫১৫ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আর আনসার থাকছে ২৭ হাজার ৭০৩ জন। ঢাকা মহানগর পুলিশ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। ভোট উপলক্ষে ডিএমপির ৫১০টি মোবাইল টিম রাজধানীতে মোবাইল পেট্রোল ডিউটি শুরু করেছে।

রাজধানীর প্রবেশপথগুলোয় ১১টি স্থানে (পুরান ঢাকার বাবুবাজার, পোস্তগোলা ব্রিজ, মাতুয়াইল ইউ-লুপ, স্টাফ কোয়ার্টার, বাসাবো রাস্তায় (কমলাপুর), গাবতলী, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট, আবদুল্লাহপুর ব্রিজ, কামারপাড়া ও ধউড় ব্রিজ) চেকপোস্ট (নিরাপত্তাচৌকি) বসিয়ে এরই মধ্যে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নির্বাচনের আগে-পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে এই টহল বাড়তে থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে শুরু হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।

এদিকে পথচারীদের কেউ কেউ মোড়ে মোড়ে তল্লাশির কারণে সাময়িক ভোগান্তির শিকার হলেও নিরাপত্তার বিবেচনায় তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাদের অভিমত, নির্বাচন কেন্দ্র করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য এমন সতর্কতা জরুরি।

গতকাল বাংলামোটর এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চালক ও আরোহীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। কোথা থেকে আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন এমন নানা প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে চলাচলের কারণ। প্রয়োজনে কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি বাড়বে।

রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা জানান, ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন শনাক্ত করাই চেকপোস্টের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোহাম্মদপুরে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ ইস্ট রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যাতে এই নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলতা না করতে পারে। গত তিন দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এই তিনটি অস্ত্রসহ প্রায় ২১ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের চাপাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও পুলিশের পূর্ববর্তী নির্বাচনী অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে রাজধানীতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে জাানিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, ঢাকা মহানগরীর আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২২:৫৩ ● ২৭ বার পঠিত