
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে ঐতিহ্যবাহী গৌরবোজ্জ্বল দিন।
এই দিনে বাঙালির তরতাজা রক্তে ঝরে ছিল রাজপথে। সেই দিনটাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করে ছিল ইউনেস্কো।
পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই পশ্চিমারা ভাষা নিয়ে একটা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল ।
আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডঃ জিয়াউদ্দিন উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
পূর্ব বঙ্গ থেকে ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন। । সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালীর বাংলাই হবে রাষ্ট্রভাষা।
আবার ১৯৪৮সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
শাসক গোষ্ঠির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন কে সামনে রেখে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনকে সারা বাংলায় জোরদার করা হয়।
ঐ দিকে উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার কারার জন্য সারা ঢাকায
সভা সমাবেশ মিটিং উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয় ।
কিন্তু বাঙালি বীরের জাতি, বাংলার দামাল ছেলে মেয়েরা সকল প্রকার দমন পীড়ন উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারার
ভঙ্গ করে। তাদের বিক্ষোভ মিছিলে স্বৈরাচার পেটোয়া বাহিনী আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গ করে নির্বিচারে গুলি চালায়,
ঢাকার রাজপথ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত রঞ্জিত হয়ে যায়। বুলেটে তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেয় বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার সহ অনেকে শাহাদাত বরণ করেন। ।
ভাষার জন্য কোন জাতি এতো প্রাণ দিতে হয়নি।
শাসকগোষ্ঠীর হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন দাবানলের ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। ঘটনা সারা বিশ্বের শান্তিকামি মানুষ প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন দেশের আমজনতা ও সরকার প্রধান ক্ষোভ ছাড়াও বিভিন্নভাবে পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
তার এই ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় । ১৯৫৬ সালে সংবিধানে সরকার বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।