মঙ্গলবার ● ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ ; কিছু হিসাব-নিকাশ

Home Page » জাতীয় » ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ ; কিছু হিসাব-নিকাশ
মঙ্গলবার ● ৩১ মার্চ ২০২৬


ফাইল ছবি- ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ  বঙ্গনিউজ: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে শুরু করা এই অভিযানে গত ৩১ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে অন্তত ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে।
গ্লোবাল মিলিটারি স্পেন্ডিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই যুদ্ধের পেছনে প্রতি সেকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৩০০ ডলার। অর্থাৎ, প্রতি ঘণ্টায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসাব অনুযায়ী, গত ৩১ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
যুদ্ধের এই বিশাল অর্থ যদি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো, তবে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারতো: খাতগুলো নিম্নরূপঃ
শিক্ষা খাতে বিপ্লব: এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার স্কুল শিক্ষকের এক বছরের বেতন দেওয়া যেতো। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ কলেজ স্কলারশিপ দেওয়া সম্ভব হতো, যা উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতো।
খাদ্য নিরাপত্তা: যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে প্রায় ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন (৭৯০ কোটি) বার দুপুরের খাবারের (স্কুল লাঞ্চ) খরচ এই টাকা দিয়ে মেটানো যেতো।
আবাসন ও স্বাস্থ্য: এই অর্থ দিয়ে ৭৯ হাজারের বেশি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা যেতো। স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৫০০টি হাসপাতালের বেড এবং ৫৫ হাজারের বেশি উন্নত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব ছিল।
কোথায় খরচ হচ্ছে এত অর্থ
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিদিনের গড় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো হলো:
বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র: প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে—প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও জেডিএএম বোমার মতো উচ্চমূল্যের অস্ত্র।
বিমান ও নৌ-অভিযান: যুদ্ধবিমান পরিচালনা, বোমাবর্ষণ এবং জ্বালানি রিফুয়েলিংয়ে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি রণতরী, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন পরিচালনায় খরচ হচ্ছে আরও ১৫৫ মিলিয়ন ডলার।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নজরদারি: থাড ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রতিদিন ৯৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া স্যাটেলাইট ইমেজারি ও সাইবার অপারেশনের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার
লজিস্টিকস ও সেনা সহায়তা: প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে সেনাদের মোতায়েন, রসদ সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তার পেছনে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বাড়বে, এই খরচের পাল্লা ততই ভারী হবে। যেখানে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা জীবনযাত্রার মান নিয়ে লড়াই করছেন, সেখানে যুদ্ধের পেছনে এমন বিশাল অংকের ব্যয় নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৬:৪২ ● ১৩ বার পঠিত