সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
দাম বাড়ল, ভোগান্তি কমল না
Home Page » জাতীয় » দাম বাড়ল, ভোগান্তি কমল নাজ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সংকট কমবে — এই প্রত্যাশা বাস্তবে মেলেনি। রবিবারও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল আগের মতোই। কোনো কোনো পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেলেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।
সরেজমিন বেলা ২টায় মানিকদীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দামবৃদ্ধির পরও গাড়ির সারি কার্যত আগের মতোই দীর্ঘ। পাম্পের কর্মচারী মো. রাজীব জানান, এই স্টেশনে মোট জ্বালানির চাহিদা ৮০ হাজার লিটার, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪০ হাজার লিটার। গত শনিবার থেকে রেশনিং চালু করা হয়েছে — ফুয়েল পাসে ১০ লিটার বা ১ হাজার ৪০০ টাকার তেল, পাস ছাড়া ১ হাজার টাকার তেল এবং প্রাইভেট কারে সাড়ে ৩ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
মোটরসাইকেলচালক ও শিক্ষক আল আমিন বলেন, “রবিবার ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, বেলা আড়াইটায়ও তেল পাইনি — সাড়ে ৯ ঘণ্টা। দাম বাড়ানোর পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখছি না।” শিক্ষার্থী ও মোটরসাইকেলচালক জীবন হাসান ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ৩টায় তেল পান। তিনি বলেন, “লাইনের যন্ত্রণা আগের মতোই আছে, তার ওপর এখন প্রতি ৫ লিটারে বাড়তি ১০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।”
রাজধানীর নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টারে রবিবার দুপুরেই ডিজেল ফুরিয়ে যায়। অকটেনও দ্রুত শেষ হওয়ার পথে বলে জানান কর্মকর্তারা। পাম্প ম্যানেজার সোহেল রানা জানান, এপ্রিলে গড়ে সাড়ে ২৯ হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হলেও রবিবার দেওয়া হয়েছে সাড়ে ২২ হাজার লিটার। একইভাবে অকটেন সরবরাহ ৫২ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার লিটারে। এই পাম্পে ফুয়েল পাসে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং পাস ছাড়া ৮০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে।
চাকরিজীবী মোটরসাইকেলচালক নাজমুল হাসান বলেন, “ভোর ৬টায় এসেছি, বেলা ৩টা পর্যন্ত তেল পাইনি। দামবৃদ্ধির সুফল পেতে আরও কয়েকদিন লাগবে মনে হচ্ছে।”
দুই পাম্পেই চালকদের কণ্ঠে একটাই বার্তা — তেলের দাম বাড়ানোয় তাদের আপত্তি নেই, কিন্তু চাহিদামতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার এই ভোগান্তি তারা আর সহ্য করতে রাজি নন।
পাম্পের কর্মকর্তারাও একমত। তাদের বক্তব্য, সরকার যদি সরবরাহ কিছুটা বাড়ায়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না। দামবৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও দুই থেকে তিন দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে বলেও জানান তারা।
বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৬:০৪ ● ১২ বার পঠিত