রবিবার ● ৩ মে ২০২৬

জেলের জালে কালো ব্যাগে মিলল নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ

Home Page » প্রথমপাতা » জেলের জালে কালো ব্যাগে মিলল নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ
রবিবার ● ৩ মে ২০২৬


নিহত নাহিদা বৃষ্টি

মাছ ধরতে বেরিয়ে এক জেলে হয়ে উঠলেন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল সাক্ষী। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াকে মাছ ধরার সময় একটি দুর্গন্ধযুক্ত কালো ব্যাগ দেখে থমকে যান তিনি। কাছে গিয়ে দেখেন — ভেতরে মানবদেহ। পরে তা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানান, ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে যাওয়ার পর সেটি ছাড়াতে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ পান জেলে। ঝোপের ভেতরে আংশিক খোলা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে লোনাপানি ঢুকে পড়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশকে খবর দেন, পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ পচে যাওয়ায় শনাক্তে ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের সহায়তা নিতে হয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি যে পোশাক পরেছিলেন, মরদেহে একই পোশাক থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন — দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায়। ১৮ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন। তদন্তে লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার চশমা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়। লিমনের মরদেহও পরে একটি ব্যাগে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘর ও তার নিজের কক্ষে বিপুল পরিমাণ রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। প্রযুক্তির সহায়তায় মেঝেতে একটি মানবদেহের ক্ষুদ্র ছাপও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযুক্ত তার ফোন থেকে তথ্য মুছে ফেললেও তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। তার সার্চ হিস্ট্রি ও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে হত্যার পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছুরি দিয়ে খুলি ভাঙার উপায়, গুলির শব্দ শোনা যাবে কি না এবং মরদেহ গুম করার পদ্ধতি — এ ধরনের প্রশ্ন সে করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ গাড়ির ট্রাংকে করে সরানো হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
তবে এত কিছুর পরও একটি প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি — ঠিক কী কারণে এই দুই তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হলো। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটনে কাজ চলছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৮:১৫ ● ৯ বার পঠিত