রবিবার ● ৩ মে ২০২৬

হরমুজে ইরানকে ‘টোল’ দিলেই নিষেধাজ্ঞা

Home Page » প্রথমপাতা » হরমুজে ইরানকে ‘টোল’ দিলেই নিষেধাজ্ঞা
রবিবার ● ৩ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে ইরানকে টোল দিলে কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে — বিশ্বের জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলোকে এই কড়া বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (ওএফএসি) গত শুক্রবার জারি করা এক সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরান সরকারকে যেকোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ — নগদ, ডিজিটাল সম্পদ, অফসেট বা অনানুষ্ঠানিক সোয়াপ — সবই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এমনকি ইরানি দূতাবাসে দান হিসেবে দেওয়া অর্থও এর বাইরে নয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শুধু মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান নয়, বিদেশি যেকোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি যদি ইরানকে এই টোল দেয়, তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে বলছে, নিরাপদ চলাচলের বিনিময়েই তারা টোল আদায় করছে।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদেজা হাজি বাবাবেই দাবি করেছেন, আদায় করা টোলের প্রথম অংশ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে টোলের পরিমাণ বা কারা অর্থ দিয়েছে, তা জানানো হয়নি। বিবিসিও এই দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

একই দিন ইরানের তেল বিক্রির অর্থ রূপান্তরের অভিযোগে তিনটি বিদেশি মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “ইরান সরকারের অর্থ উপার্জন ও স্থানান্তরের সক্ষমতা নষ্ট করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যারা তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করছে, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫টি পণ্যবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ চলাচল করত, এখন তা দিনে হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে।
তেল, খাদ্য ও ওষুধ পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই অবরোধের ফলে ইরানের আয়ের প্রধান উৎসগুলো শুকিয়ে গিয়ে তেহরান আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হবে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৬:৩৫ ● ১৩ বার পঠিত