রবিবার ● ২১ জুন ২০২৬

তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

Home Page » জাতীয় » তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
রবিবার ● ২১ জুন ২০২৬


তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

ধারাবাহিক বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় অবিরাম পানি ঢুকে পড়ায় ইতিমধ্যে অনেক জমি প্লাবিত হয়েছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা — এই পাঁচ জেলায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার, যেখানে এই পয়েন্টের বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। গত শুক্রবার একই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার — মাত্র এক দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “গজলডোবা ব্যারাজের ২০টি গেট ভারত খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।”
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে, তাই পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, “তিস্তার পানি আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।”
কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তাদের চরটি ইতিমধ্যে নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তিনি এখনো বাড়িতে অবস্থান করলেও পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে বলে জানান।
মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, “উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।” তিনি জানান, আমন ধানের চারার জন্য তৈরি বীজতলাও ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই। তবে তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪০:২৯ ● ১২ বার পঠিত