সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দাফন

Home Page » জাতীয় » অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দাফন
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬


বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম

বাংলা একাডেমির সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের দুই দফা জানাজা সোমবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বাংলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও অপরাজেয় বাংলায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে বাদ ফজর রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর মসজিদুল আমান মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজার আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে, ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থাকবে।

রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি জানান, দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবুল কাসেম। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তার গবেষণা ও প্রবন্ধ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

সাহিত্য, গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার মেয়ে ড. শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন ছিলেন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী; ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর জঙ্গি হামলায় তিনি নিহত হন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫১:১৮ ● ১২ বার পঠিত