বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুলাই ২০২৬

জাক্সু নেতারা কি হল ছাড়তে পারবেন ; প্রশাসনের সিদ্ধান্ত

Home Page » শিক্ষাঙ্গন » জাক্সু নেতারা কি হল ছাড়তে পারবেন ; প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুলাই ২০২৬


 

জাক্সু নেতারা কি হল ছাড়তে পারবেন ; প্রশাসনের সিদ্ধান্ত

নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আবাসিক হল ছাড়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত আবাসিক হলে থাকতে পারবেন—এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ জাকসুর সদস্য ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত হলে অবস্থান করতে পারবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৫(ট) ধারায় বলা হয়েছে, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে। তবে প্রশাসনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য এই নিয়মের বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছরের স্নাতক (সম্মান) কোর্স একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ছয় বছরে শেষ করতে পারেন। আর এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পাওয়া যায়। এই সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে না পারলে নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের হলে থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা লিখিত দাবি জানানো হয়নি। তবে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও কয়েক মাস ধরে হলে অবস্থান করছিলেন জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু। অন্যদিকে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম হল ছেড়ে দেন। ফলে জিতুর হলে অবস্থান নিয়ে কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের পদের মেয়াদ পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ দিয়ে প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

 

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রত্ব ধরে রাখতে তিনি তাঁর ব্যাচের সঙ্গে স্নাতক পরীক্ষা শেষ করেননি। একটি কোর্সের পরীক্ষা বাকি রেখেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই কোর্সের পরীক্ষা পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) সঙ্গে দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর। তবে জিতুর বিভাগের ৪৮তম ব্যাচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে তাঁর নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নিজের নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আমি হল ছেড়ে দিয়েছি। প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তি নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের হলে থাকার একটি পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছি।’

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিব বলেন, ‘অন্য সব শিক্ষার্থীর মতো জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদেরও ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে, এটাই নিয়ম। শিক্ষার্থী সংসদের জন্য আলাদা নিয়ম কোন আইনের বলে জারি করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।’

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, জাকসুর নেতারা নিজেরাই বলছেন, হলে থাকার বিষয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কোনো দাবি জানাননি। অথচ কিছুদিন আগে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিছানা কক্ষের বাইরে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ন্যায্য দাবি নিয়ে ছাত্রদল গেলেও তা মানতে প্রশাসন গড়িমসি করে, আর জাকসুর ক্ষেত্রে না চাইতেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ জিতুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার প্রশাসনিক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাকসুর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনো দাবি জানানো হয়নি। হয়তো কেউ মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে থাকতে পারেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৩:৪২ ● ১৯ বার পঠিত