বুধবার ● ২৬ আগস্ট ২০২৬
বেগমগঞ্জে ভাসুরের অত্যাচারে দু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন
Home Page » বিবিধ » বেগমগঞ্জে ভাসুরের অত্যাচারে দু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনদীর্ঘ ৫ টি বছর ভাসুর ইলিয়াছ ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে মমতা আক্তার । এ ব্যাপারে থানা -আদালতে মামলা করেও কোনো কূল পায়নি । শেষ রক্ষার জন্য আশ্রয় নিয়েছে সাংবাদিকদের নিকট । দু সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় উদ্বিগ্ন মমতা তার স্বামীর বসত ভিটা ফিরে পাবার জন্য অশ্রুসিক্ত নয়নে আকুল আবেদন জানালেন সবার কাছে ।
ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং হাজীপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের নুরুল হক মিয়ার বাড়ীতে ।
মমতা আক্তার (২৮) পিতা - আবু ইউসুফ ২০১৩ সালে একই গ্রামের পার্শবর্তী বাড়ীর লোকমান সর্দারের ছেলে ফখরুল ইসলাম ওরফে হক এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয় ।
বিয়ের পর থেকেই ভাসুর ইলিয়াছে্য স্ত্রী ফারহানা আক্তার ওরফে শ্যামলীর অত্যাচার নির্যাতনের অতিষ্ট হয়ে পড়ে । ইলিয়াছ আলী তখন বিদেশে থাকতো ।
ইতিমধ্যে মমতা দুই সন্তানের মা হয় । স্বামী ফখরুল ৫/৬ মাস আগে ক্লোন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরে আসে । অসুস্থ স্বামী ও দু সন্তান নিয়ে শুরু হয় তার মানবেতর জীবন ।
মমতা জানায় , ভাসুর ইলিয়াছ (৫৮) বিদেশ থেকে এসে তার মানসিক রোগে আক্রান্ত পিতা লোকমান সর্দার ও আপন ভাইদের পিছনে অর্থ ব্যায় বাবদ প্রায় ৮৩ শতাংশ ভূমি লোকমান সর্দার থেকে দলিল করে নিজের নামে নিয়ে নেয় ।
পরে বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী ফখরুল সহ তাকে পিটিয়ে বের করে দেয় এবং পুলিশী সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তার ঘরে লুটতরাজ চালায় বলে মমতা জানায় ।
এ ব্যাপারে সু বিচার চেয়ে মমতা ২৩/০৭/২৫ সালে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নং আমলী আদালতে একটি সি আর মামলা করেন । মামলা নং- ৬৭৫ ।
ইলিয়াসের এরুপ কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে তার ভাই নজরুল ইসলাম ১৪ আগষ্ট ২০২৫ সালে বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করে বলে মমতা জানায় ।
এমনকি নজরুলের জানাজা অনুষ্ঠানেও ইলিয়াছ তার ভাই ফখরুলকে মারধর করে ।
এদিকে ভাসুর ইলিয়াছ মমতার অভিযোগকে অস্বীকার করে বলে , আমি ফখরুলকে ব্যবসা করার জন্য ১৮ লাখ টাকা দিয়েছি । কিন্তু সে নেশা করে ৫ লাখ টাকা খরচ করে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে । বাকি টাকা দিয়ে সে মদ , গাঁজা খেয়ে উড়ায় । আমার ভগ্নিপতিও তাকে টাকা খরচ করে আফ্রিকা পাঠায় । সেখানেও সে সফল হয়নি । আমার ভাইয়েরা সম্পত্তি ধরে রাখতে পারবেনা এই জন্য আমার বাবা আমাকে ৮৫ শতাংশ ভূমি চৌমুহনী কলেজ রোডস্থ আমার ভাড়া বাসায় গিয়ে আমার নামে নিজের ইচ্ছায় দলিল করে দেয় । এমনকি মায়ের নামীয় ১০ শতাংশ ভূমিও আমার নামে লিখে দেয় । দলিলে আমার সব ভাইদের স্বাক্ষর রয়েছে । আমি আমার ছোট ভাই রহিমের নিকট জায়গা বিক্রি করি । সেই মমতাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয় তার জমি বুঝে পাওয়ার জন্য । এখানে আমার কোনো হাত নেই । রহিমের শ্যালক আজাদ বলেন , আমার দুলা ভাই মমতাকে এক লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছে ।সে নেয়নি ।
তবে অভিজ্ঞ মহলের মতে কারো বসত ভিটা তার অনুমতি ছাড়া খরিদ করা ঠিক নয় ।
নোয়াখালী থেকে মোতাহার হোসেন
বাংলাদেশ সময়: ১২:১৬:২৬ ● ১৯ বার পঠিত