শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেশন নাকি ফ্যামিলি কার্ড - কৃষকের কার্ডে কি সুবিধা ?

Home Page » সংবাদ শিরোনাম » রেশন নাকি ফ্যামিলি কার্ড - কৃষকের কার্ডে কি সুবিধা ?
শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রেশন নাকি ফ্যামিলি কার্ড -  কৃষকের কি সুবিধা ?

 

 

রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি—দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে চালু হয়েছে নানা ধরনের কার্ড। সর্বশেষ এই তালিকায় যোগ হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড।

আবার পরিচয় প্রমাণের জন্য একজন নাগরিকের আছে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন। সরকারি সুবিধা থেকে ব্যক্তিগত পরিচয়, বিভিন্ন প্রয়োজনে নাগরিককে ব্যবহার করতে হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কার্ড ও পরিচয়পত্র।এখন এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে একটি পরিচয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা এক-আইডি ব্যবস্থায় জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিককে একটি স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবায় সারা জীবন একই পরিচয় ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশে এক পরিচয়ের এই ভাবনা একেবারে নতুন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে কার্ডনির্ভর সরকারি সহায়তার দীর্ঘ ইতিহাস। রেশন কার্ড থেকে শুরু করে ভিজিএফ, ভিজিডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড—কীভাবে তৈরি হলো এই দীর্ঘ পথ? আর এত কার্ডের পর কেন আবার এক পরিচয়পত্রের (আইডি) প্রয়োজন দেখা দিল?রেশন ব্যবস্থা দিয়ে শুরু

 

 

 

এই অঞ্চলে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য বিতরণের ইতিহাস শুরু ব্রিটিশ আমলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে শহরাঞ্চলে বিধিবদ্ধ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার।

 

 

 

এই অঞ্চলে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য বিতরণের ইতিহাস শুরু ব্রিটিশ আমলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে শহরাঞ্চলে বিধিবদ্ধ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানেও এই ব্যবস্থা বহাল থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশেও রেশনব্যবস্থা চালু ছিল।

 

 

 

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানেও এই ব্যবস্থা বহাল থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশেও রেশনব্যবস্থা চালু ছিল।

স্বাধীন বাংলাদেশে রেশনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্ট্যাচুটরি রেশনিং বা বিধিবদ্ধ রেশনিং (এসআর)। রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ কম দামে চাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য কিনতে পারতেন।তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। খাদ্যশস্যের অপচয় ও আত্মসাৎ, ভুয়া ও অনিয়মিত বিতরণ, পণ্য কম দেওয়া ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন সময়ে এসব অনিয়মের সঙ্গে তৎকালীন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের নামও এসেছে।

 

 

 

বর্তমান বিএনপি সরকারও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কার্ড চালু বা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয় ছিল দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। সরকার গঠনের পরপরই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়।

 

 

 

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সরকারি ভর্তুকির খাদ্য শহরের তুলনামূলক প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর কাছে বেশি পৌঁছাচ্ছিল, এমন অভিযোগও ছিল। প্রশাসনিক দুর্নীতি, মজুতদারি ও খাদ্যশস্য পাচারের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

একপর্যায়ে রেশনব্যবস্থা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর বদলে সরকার কাজের বিনিময়ে খাদ্য বা অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে আছে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর)।

তবে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন শৃঙ্খলা বাহিনীতে এখনো রেশনব্যবস্থা চালু আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৯:০৫ ● ২৫ বার পঠিত