
সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবরোধ ভেঙে দিয়ে আটকে পড়া প্রায় আড়াই হাজারের অধিক পর্যটকদের নিরাপদে পৌঁছে দেন। এ সময় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে তৃতীয় দফায় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেকে অবস্থানকারী পর্যটকবাহী গাড়ি নিয়ে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরে গাড়িবহরগুলো গঙ্গারামের উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে সড়কের ওপর অবরোধকারীরা অবস্থান করায় আটকে পড়েন পর্যটকরা।
পরে অবস্থানকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে পর্যটকদের গাড়িবহর নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইউপিডিএফ অস্ত্রধারীরা গুলি বর্ষণ করে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পাল্টা গুলি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির বিনিময় হয়। এখনো থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপদ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।