বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে ভারতে
Home Page » জাতীয় » ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে ভারতে
বঙ্গনিউজ: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো পৃথক দুর্ঘটনায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বুধবার ভোরে উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা বাতাসের বেগ নিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে এর কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ভারতের বিশাখাপত্তনম উপকূলে আছড়ে পড়ছে উঁচু ঢেউ
হতাহতের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত হয়েছে অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায়। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, উপকূল অতিক্রমকালে ঘূর্ণিঝড়ের একটানা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়া হিসেবে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। সকালের দিকে ঝড়টি অতি প্রবল থেকে কিছুটা শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।
ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জনপদে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট এবং নির্ধারিত কিছু ট্রেনের চলাচল বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাবে অন্ধ্র ও ওডিশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়। এছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপল্লেতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টিকারী এই ঝড়টির ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের এসকাপ প্যানেলের অনুমোদিত তালিকায় নামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত মোট ১৬৯টি নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়গুলোর আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২০:২২:৫২ ● ১৬ বার পঠিত