ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ২৭”

Home Page » সাহিত্য » ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ২৭”
মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১



নতুন প্রজন্মের চোখে মুক্তিযুদ্ধ

১৭০৭ সালে মোঘল সম্রাট আঔরঙ্গজেব এর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের অনেক অংশ বিদ্রোহ করতে শুরু করে। আওরঙ্গজেবের ছেলে প্রথম বাহাদুর শাহ প্রশাসন সংস্কার করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তবে ১৭১২ সালে তার মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্য বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়ে ।মুঘল সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে ১৭১৯ সাল হতে মোঘলদের বংশ পরস্পরায় ক্রমান্বয়ে চারজন দুর্বল সম্রাট পরপর শাসন করেছেন । নিম্নে বংশ পরস্পরায় প্রাচীন ভারতবর্ষ শাসনামলে মোঘল সম্রাটদের একটি তালিকা উপস্হাপন করা হলো :
বংশ পরস্পরায় প্রাচীন ভারতবর্ষ শাসনামলে মোঘল সম্রাটদের তালিকা :
১. প্রথম সম্রাট –‘সম্রাট বাবর’ এর শাসনামল(৩০ এপ্রিল ১৫২৬ – ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ ) : প্রায় দুই শতাব্দী ধরে মোঘল সাম্রাজ্য প্রাচীন ভারতবর্ষের পশ্চিমে সিন্ধু অববাহিকার বাইরের প্রান্ত, উত্তর-পশ্চিমে আফগানিস্তান এবং উত্তরে কাশ্মীর, পূর্বে বর্তমান আসাম ও বাংলাদেশের উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ ভারতের ডেকান মালভূমির উপভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুঘল সাম্রাজ্য মূলতঃ পারস্য ও মধ্য এশিয়ার ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল।পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইবরাহিম লোদির বিরুদ্ধে মোঘল সম্রাট বাবরের জয়ের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। মুঘল সম্রাটরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার টার্কো-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত। তারা চাগতাই খান ও তৈমুরের মাধ্যমে চেঙ্গিস খানের বংশধর। ১৫৫৬ সালে আকবরের ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্রূপদী যুগ শুরু হয়।
২. দ্বিতীয় সম্রাট-সম্রাট হূমায়ূন (পুরো নাম- নাসিরউদ্দিন মুহাম্মদ হূমায়ূন),শাসনামল -১৫৩০ হতে ১৫৫৬ :
পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ের পর বাবরের সেনাবাহিনী উত্তর ভারতের অধিকাংশ এলাকা জয় করে নেয়। তবে শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য সম্রাট বাবর তাঁর ছেলে হুমায়ুনের উপর সাম্রাজ্য চালানোর দায়িত্ব অর্পন করেন৷ সম্রাট হূমায়ূন ক্ষমতায় আরোহণ করেই সকল প্রকাল অস্হিতিশীলতা থেকে মোঘল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন এবং তাঁর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হুমায়ুন দিগ্বিজয়ী সেনাপতি শেরশাহ কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত থেকে পারস্যে পালিয়ে যান। হুমায়ুনের সাথে পারস্যের সাফাভিদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্যে পারসীয় সাংস্কৃতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে।সাফাভিদের সহায়তায় হুমায়ুন মুঘলদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।তিনি সুরি সম্রাট ‘ শেরশাহ সুরির’ হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন এবংকিছুকাল পরে ১৫৫৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন ৷
৩. তৃতীয় সম্রাট –আকবর-এ-আজম(পুরো নাম-জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর),শাসনামল-২৭ জানুয়ারি ১৫৫৬ – ২৭ অক্টোবর ১৬০৫ :
সম্রাট হুমায়ূনের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ‘আকবর-এ-আজম’ ক্ষমতায় আরোহণ করেন ৷ ১৫৫৬ সালে আকবরের ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্রূপদী যুগ শুরু হয়। আকবর ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে অর্থনৈতিক প্রগতি বহুদূর অগ্রসর হয়। আকবর অনেক হিন্দু রাজপুত রাজ্যের সাথে মিত্রতা করেন। কিছু রাজপুত রাজ্য উত্তর পশ্চিম ভারতে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি রাখে কিন্তু আকবর তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হন। সম্রাট আকবর ও বৈরাম খান পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে শত্রু-পক্ষকে পরাজিত করেন।চিতোরগড় অবরোধেও আকবর সফল হন। আকবর মোঘল সাম্রাজ্যকে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন এবং মোঘল-আমলের শাসকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিবেচিত হন।লাহোর দুর্গ আকবরের সময় নির্মিত অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা ।তিনি দ্বীন-ই-ইলাহি ধর্মের প্রবর্তক। মুঘল সম্রাটরা মুসলিম ছিলেন বটে ৷ তবে জীবনের শেষের দিকে শুধুমাত্র সম্রাট আকবর ও তাঁর পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর নতুন ধর্ম দীন-ই-ইলাহির অনুসরণ করতেন।পরে অবশ্য দীন-ই-ইলাহির অনুশীলন পরবর্তী সম্রাটদের মাঝে খুব একটা দেখা যায়নি ৷
৪. সম্রাট জাহাঙ্গীর(পুরো নাম-নুরউদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম, শাসনামল -১৫ অক্টোবর ১৬০৫ – ৮ নভেম্বর ১৬২৭) : সম্রাট আকবর-এর পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর ৷সম্রাট জাহাঙ্গীর এর জণ্ম ২০ সেপ্টেম্বর ১৫৬৯ ৷ মুঘল সম্রাটদের মধ্যে জাহাঙ্গীর সর্বপ্রথম পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। আকবরের ছেলে সম্রাট জাহাঙ্গীর সমৃদ্ধির সাথে শাসন করেছেন। তবে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন। তার রাষ্ট্রীয় কাজে অনীহা দেখে দরবারের প্রভাবশালীরা তাঁর দুই সন্তানদের পক্ষ নিয়ে দু’দলে বিভক্ত হয়ে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহীদের প্রভাবে পড়ে যান জাহাঙ্গীর। অবশেষে, তাঁর এক সন্তান-‘শাহজাহান’ হিসেবে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন । সম্রাট জাহাঙ্গীর মদ্যপায়ী ছিলেন বলে তাঁর সন্তানেরা ক্ষমতায় আরোহনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী –‘সম্রাজ্ঞী নূর জাহান’ এসময় কিছুকালের জন্য রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন ৷

৫. সম্রাট শাহজাহান ( শাহাবউদিন মুহাম্মদ খুররম, শাসনামল : ৮ নভেম্বর ১৬২৭ – ২ আগস্ট ১৬৫৮) : সম্রাট শাহজাহানের শাসনকাল মুঘল দরবারের জাকজমকের জন্য প্রসিদ্ধ। এসময় অনেক বিলাসবহুল ইমারত নির্মিত হয় যার মধ্যে আগ্রার তাজমহল অন্যতম। এসময় দরবারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি ছিল।শাহজাহানের যুগে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মাসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ,জাহাঙ্গীরের মাজার, শালিমার বাগান ইত্যাদি ।

৬.সম্রাট আঔরঙ্গজেব ( পুরো নাম : মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব , শাসনামল : ৩১ জুলাই ১৬৫৮ – ৩ মার্চ ১৭০৭) : আঔরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়। শিবাজী ভোসলের অধীনে মারাঠাদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্যের অবনতি শুরু হয়। আঔরঙ্গজেবের সময় দক্ষিণ ভারত জয়ের মাধ্যমে ৩.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। এসময় সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়নের বেশি যা তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আঔরঙ্গজেব শরিয়া আইনের প্রচলন পুনরায় শুরু করেন । ‘ফতোয়া-ই-আলমগীরি’ নামক আইন সংকলন তাঁর সময় প্রণীত হয়। গোলকুন্ডা সালতানাতের হীরার খনি তিনি জয় করেছিলেন। জীবনের শেষ ২৭ বছরের অধিকাংশ সময় আঔরঙ্গজেব বিদ্রোহী মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়। ব্যাপক বিস্তৃত সাম্রাজ্য মনসবদারদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হত । তাঁর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্য বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। নিজের হাতে কুরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য আঔরঙ্গজেব অধিক পরিচিত। দক্ষিণাত্যে মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় তিনি ৮৮ বছর বয়সে মারা যান।
৭.সম্রাট আজম শাহ ( পুরো নাম- আবুল ফাইজ কুতুবউদ্দিন মুহাম্মদ আজম, জন্ম-২৮ জুন ১৬৫৩-মৃত্যু-৮ জুন ১৭০৭) : শাসনামল-১৪ মার্চ ১৭০৭ – ৮ জুন ১৭০৭,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-নেই ।
৮. সম্রাট বাহাদুর শাহ ( পুরো নাম-কুতুবউদ্দিন মুহাম্মদ মুয়াজ্জম, জন্ম-১৪ অক্টোবর ১৬৪৩-মৃত্যু-২৭ ফেব্রুয়ারি ১৭১২ (৬৮ বছর)) : শাসনামল-১৯ জুন ১৭০৭ – ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৭১২, উল্লেখযোগ্য ঘটনা-তিনি মারাঠাদের সাথে সমঝোতা করেন, রাজপুতদের শান্ত করেন এবং পাঞ্জাবের শিখদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন।
৯. সম্রাট জাহানদার শাহ ( পুরো নাম-সম্রাট জাহানদার শাহ, জন্ম—৯ মে ১৬৬১,মৃত্যু-১২ ফেব্রুয়ারি ১৭১৩ (৫১ বছর)) : শাসনামল-২৭ ফেব্রুয়ারি ১৭১২ – ১১ ফেব্রুয়ারি ১৭১৩,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-নেই ।
১০.সম্রাট ফররুখসিয়ার ( পুরো নাম-ফররুখসিয়ার, জন্ম-২০ আগস্ট ১৬৮৫-মৃত্যু-২৯ এপ্রিল ১৭১৯ (৩৩ বছর)) : শাসনামল-১১ জানুয়ারি ১৭১৩ – ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৭১৯,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-১৭১৭ সালে একটি ফরমানের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে শুল্ক ছাড়া বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি দেন। সৈয়দ ভাইরা তার সময়ে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে ।
১১.সম্রাট রাফি উল-দারজাত( পুরো নাম-রাফি উল-দারজাত , জন্ম-৩০ নভেম্বর ১৬৯৯-মৃত্যু-৯ জুন ১৭১৯ (১৯ বছর) : শাসনামল-২৮ ফেব্রুয়ারি – ৬ জুন ১৭১৯,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-নেই ।
১২.সম্রাট দ্বিতীয় শাহজাহান ( পুরো নাম-রাফি উদ-দৌলত , জন্ম-জুন ১৬৯৬-মৃত্যু-১৯ সেপ্টেম্বর ১৭১৯ (২৩ বছর)) : শাসনামল-৬ জুন ১৭১৯ – ১৯ সেপ্টেম্বর ১৭১৯,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-নেই ।
১৩.সম্রাট মুহাম্মদ শাহ ( পুরো নাম-রোশান আখতার বাহাদুর, জন্ম-১৭ আগস্ট ১৭০২-মৃত্যু-২৬ এপ্রিল ১৭৪৮ (৪৫ বছর)) : শাসনামল-২৭ সেপ্টেম্বর ১৭১৯ – ২৬ এপ্রিল ১৭৪৮,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-সৈয়দ ভাইদের হাত থেকে নিস্কৃতি পান। মারাঠাদের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ে দক্ষিণাত্য ও মালওয়া হারান। শাসনামলে নাদির শাহের আক্রমণ হয়। সাম্রাজ্যের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম শেষ সম্রাট।
১৪. সম্রাট আহমেদ শাহ বাহাদুর( পুরো নাম-আহমেদ শাহ বাহাদুর, জন্ম-২৩ ডিসেম্বর ১৭২৫-মৃত্যু-১ জানুয়ারি ১৭৭৫ (৪৯ বছর)) : শাসনামল-২৬ এপ্রিল ১৭৪৮ – ২ জুন ১৭,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-সিকান্দারাবাদের যুদ্ধে মারাঠাদের বিপক্ষে মুঘলদের পরাজয় !
১৫. সম্রাট আজিজউদ্দিন ( পুরো নাম-আজিজউদ্দিন, জন্ম-৬ জুন ১৬৯৯-মৃত্যু-২৯ নভেম্বর ১৭৫৯ (৬০ বছর)) : শাসনামল-২ জুন ১৭৫৪ – ২৯ নভেম্বর ১৭৫৯,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-উজির গাজিউদ্দিন খান ফিরোজ জঙের আধিপত্য ।
১৬.সম্রাট তৃতীয় শাহজাহান ( পুরো নাম-মুহিউল মিল্লাত , জন্ম-১৭১১-মৃত্যু-১৭৭২) : শাসনামল-১০ ডিসেম্বর ১৭৫৯ – ১০ অক্টোবর ১৭৬০,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-নেই ।
১৭.সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ( পুরো নাম-আলি গওহর , জন্ম-২৫ জুন ১৭২৮-মৃত্যু-১৯ নভেম্বর ১৮০৬ (৭৮ বছর)) : শাসনামল-২৪ ডিসেম্বর ১৭৫৯ – ১৯ নভেম্বর ১৮০৬ (৪৬ বছর, ৩৩০ তিন) ,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-মারাঠারা তাকে মুঘল সম্রাট হিসেবে মেনে নেয়।[৩৬] পরে ১৭৬১ সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পর আহমেদ শাহ দুররানি কর্তৃক ভারতের সম্রাট স্বীকৃত হন।[৩৭] ১৭৬৪ সালে মুঘল সম্রাট, আওধের নবাব এবং বাংলা ও বিহারের নবাবের সম্মিলিত শক্তি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় শাহ আলম এলাহাবাদের উদ্দেশ্যে দিল্লি ত্যাগ করেন। এলাহাবাদের চুক্তির মাধ্যমে হানাহানি বন্ধ হয়। ১৭৭২ সালে মারাঠা নিরাপত্তায় তাকে মুঘল সিংহাসনে বসানো হয়।[৩৮] তার শাসনামলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় মুঘল নিজামত বিলুপ্ত করে।

১৮.সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ ( পুরো নাম-মির্জা আকবর , জন্ম—২২ এপ্রিল ১৭৬০-মৃত্যু-২৮ সেপ্টেম্বর ১৮৩৭ (৭৭ বছর)) : শাসনামল-১৯ নভেম্বর ১৮০৬ – ২৮ সেপ্টেম্বর ১৮৩৭,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের পর দ্বিতীয় আকবর শাহ ব্রিটিশ পেনশনভোগী হয়ে পড়েন। ব্রিটিশ নিরাপত্তায় তিনি আনুষ্ঠানিক প্রধান ছিলেন।
১৯. সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ( পুরো নাম-( পুরো নাম-আবু জাফর সিরাজউদ্দিন মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ জাফর, জন্ম-২৪ অক্টোবর ১৭৭৫-মৃত্যু-৭ নভেম্বর ১৮৬২) : শাসনামল-২৮ সেপ্টেম্বর ১৮৩৭ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭ ,উল্লেখযোগ্য ঘটনা-শেষ মুঘল সম্রাট। সিপাহী বিদ্রোহের পর তাকে বন্দী করে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে। তিনি রেঙ্গুনে মারা যান। ।

ফারহানা আকতার

তথ্যসূত্র : বুকস্ , ইন্টারনেট ৷

লেখক: ফারহানা আকতার, ডিরেক্টর এন্ড এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ইন্টারন্যাশনাল রবীন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক এবং সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ ৷

লেখকের অন্যান্য বই

বাংলাদেশ সময়: ০:৪৯:০৭   ২৭৮ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

সাহিত্য’র আরও খবর


ফারহানা আকতার এর কলাম : নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্ব- ৪৪
নূরুল ইসলাম বিপিএম এর কবিতা ‘মহাবিশ্বপ্রেমিক যুগল’
ইমাম শিকদারের কবিতা ‘জীবনটা অনেক ছোট’
ফারহানা আকতার এর কলাম : নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ; পর্ব- ৪৩ :
বউয়ের নেশা
ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ৪২”
কুসুম: স্বপন চক্রবর্তী
কুসুম: পর্ব-৫: স্বপন চক্রবর্তী
কুসুম: পর্ব-৪ -স্বপন চক্রবর্তী
ফারহানা আকতার এর কলাম –“ নতুন প্রজণ্মের চোখে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ –পর্ব- ৪১”

আর্কাইভ

16. HOMEPAGE - Archive Bottom Advertisement