সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৪৪ : স্বপ চক্রবর্তী

Home Page » সাহিত্য » সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৪৪ : স্বপ চক্রবর্তী
শনিবার ● ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩


ফাইল  ছবি- কাজী নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুল ইসলাম-৯

নজরুল যে, মানিকগঞ্জে বেশ কয়েকবার গিয়েছেন তার বহু প্রমাণও রয়েছে। যমুনা নদীর পারে অবস্থিত তেওতা জমিদার বাড়ি ও তারই পাশে ছিল বসন্তকুমার সেনগুপ্তের বাড়ি। রাজবাড়িটির ভগ্নাবশেষ এখনো রয়েছে। এই রাজবাড়ির পুকুরের পারের লিচু গাছ নিয়ে রচিত হয়েছিল “ লিচু চোর” কবিতাটি। বাবুদের এই পুকুরটি নিয়েই তিনি লিখেছেন। আর মানিকগঞ্জের চতুর্দিক দিয়ে পদ্মা–যমুনা সহ আরো কয়েকটি নদী বেষ্টিত রয়েছে। “ পদ্মার ঢেউরে, মোর শূন্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা যারে “ এই গানটি সেখানে বসেই লিখা হয়েছিল। যমুনা নিয়ে বহু গান লিখেছেন নজরুল। বল যমুনা বল কোথায় ঘন শ্যাম,নীল যমুনায় কে যায়,ইত্যাদি গানগুলো সেখানে বসে নয়তো সেখানকার অনুভুতিকে ধারণ করেই লিখা হয়ে ছিল। তখন আরিচা- দৌলদিয়া দিয়েই স্টিমারে যাতায়াত করতে হতো। তিনি চাঁদপুর থেকে তখন এই পথেই যাতায়াত করতেন। স্টীমারের রেলিংয়ে দাঁড়িয়েও তিনি জীবনের অনেক দুঃখ-কষ্টের কথা ভেবেছেন, ভেবেছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের কথা।
অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে সন্তান। এটা সমালোচকেরা জানেন না , তা বিশ্বাস করা যায় না। আর না জানা থাকলেও তা হবে বিরাট অজ্ঞতা। উপরোক্ত শিক্ষিকার এই বিষয়ে যদি ন্যুনতম জ্ঞান নেই তাহলে শিক্ষকতার মতো পেশায় আসেন কি করে? আর জেনে বুঝে এমন শিক্ষা কোমলমতি শিশুদের দিয়ে থাকলে তাও অপরাধ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মেয়েকে দিয়ে ( যদি মেয়ে হয়েও থাকতো ) মেয়ের স্বামী নজরুলকে বিষ খাওয়াবেন, আর এটা তো সেই মেয়েও মেনে নেবেন না। কারণ তাঁর স্বামী স্মৃতিভ্রষ্ট হবেন সারা জীবনের জন্য, অথবা মৃত্যু বরণ করবেন।
কবিদ্বয়কে জানতে হলে আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ ভাবে তাঁদের লেখা পড়তে হবে। সেটা তাঁদের লিখাকে সম্পাদনা করা ছাড়াই পড়তে হবে। তবেই যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে। মোল্লাগণ এবং পুরোহিতগণ সমানভাবেই কেহ যবন আবার কেহ কাফের বলে নজরুলকে আখ্যায়িত করেছেন । তাদের যে এই ব্যপারে তেমন ধারণা নেই এটা তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না। একজন ওয়াজকারি মৌলানার ওয়াজে এবার নজরুলকে প্রশংসা করতে শোনলাম। তিনি তাঁকে খাটি মুসলমান উল্লেখ করে বললেন, তাঁর আশা পূর্ণ হয়েছে, মসজিদের পাশে তাঁকে কবর দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে ছিলেন, সেখানেই কবর দেয়া হয়েছে। তিনি জান্নাতবাসী। - আমরাও তাঁর সামান্য ভক্ত হিসাবে তাঁকে জান্নাত বাসী হবার জন্য প্রার্থনা করি। কিন্তু নজরুলের লেখা আর একটু বেশী পড়তে গেলেই বাধে বিপত্তি। মসজিদের পাশে কবর দেওয়াটা নজরুলের শেষ ইচ্ছা ছিল, এটা তাঁর গানে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যখন তাঁর কবিতায় পাঠ বা কাওয়ালীতে শুনতে পাই যে,-
” যে দিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে,
ধুয়ো লাশ আমার লাল পানি দিয়ে।
শরাবী জামসেদী গজল জানাজায় গাহিও আমার
দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি, খয়রাবি ওই শরাবখানায়।
রোজ কেয়ামতে তাজা উঠবো জিয়ে,
এমনি পিব শরাব,
ভেসে যাব তাহারি স্রোতে
উঠিবে খুশবো শরাবের আমার
ওই গোরের পার হতে।
টলি পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে। -তখন চিন্তিত হই তাঁর ইচ্ছে নিয়ে। হয়তো এই টুকুকে সিলেবাস বহির্ভুত অংশ বলে চালিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু তাঁকে তো জানা হলো না।
(চলবে )

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৫:৫৭ ● ৩৬৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ