বৃহস্পতিবার ● ৮ জানুয়ারী ২০২৬
সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়: সমাধান কী?
Home Page » চাকুরির বাজার » সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়: সমাধান কী?দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে আমার প্রিয় মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশ। এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আল্লাহভীরু সৎ কর্মচারী-কর্মকর্তা যে দেশে নেই, তা বলছি না। বলছি বেশির ভাগই দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত।
এসব অফিসারের অনেকেই আজান হলে সবার আগে দৌড়ে নামাজে যান। প্রথম কাতারে দাঁড়ান। জামাতে শরিক হতে না পারলে নিজ অফিসেই জায়নামাজ বিছিয়ে একামত দিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যান। রমজান মাসে রোজা রাখেন। বছরে বছরে হজ-ওমরাহ করতে যান। মাদ্রাসা-মসজিদ, মিলাদ-মাহফিলের সভাপতি-সেক্রেটারি, ক্যাশিয়ারের মতো পদেও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে। তারা কি জানেন না, হারাম উপার্জনের নামাজ, রোজা, হজ, দান-খয়রাত কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। তারা জানেন। সমস্যাটা হলো, লোভের কাছে বারবার তারা হেরে যান। তারা ভালো করেই জানেন, দুনিয়ার মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যায়, মুখোশ পরে থাকা যায়। কিন্তু আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়া যায় না। আল্লাহর সামনে কোনো মুখোশ টেকে না। তবু তারা হারাম থেকে বের হতে পারেন না। হে হারামখোর নামাজি, হাজি, মসজিদ-মাদ্রাসা-মাহফিলের সভাপতি! কার জন্য তুমি হারাম কামাই করছ? ডাক্তার তো তোমাকে বলে দিয়েছেন, মুখরোচক সব খাবার তোমার জন্য হারাম। আরামের জীবন তোমার জন্য নয়। কঠোর পরিশ্রম আর তিতা করলার জুস বাকি জীবন তোমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাহলে কেন তুমি হাজার হাজার কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে জমা করছ? তুমি কি জানো, পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে তুমি যে সম্পদ গড়ছ সে সম্পদ তোমার সন্তান মদ খেয়ে, অশ্লীলতা করে কাগজের মতো উড়িয়ে দিচ্ছে। তুমি কি জানো তোমার স্ত্রী তোমার পাপের টাকা দিয়ে কোথায় কী করছে? তুমি হয়তো জানো না। তোমাকে জানতে দেওয়া হয় না। সন্তান, স্ত্রী, পরিবার, বন্ধু সবাই তোমাকে তোষামোদ করছে, চেয়ার দিচ্ছে, বড় মাছের পিস দিচ্ছে, অনেক বাহারি আইটেম রান্না করে তোমাকে দাওয়াত করে খাওয়াচ্ছে, এসব তোমার জন্য নয় বোকা! তোমার পাপের পয়সার কারণে। ফকিহ আবু লাইস সমরকন্দী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত তাম্বিহুল গাফেলিন কিতাবে হজরত ইকরিমা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন। ইকরিমা বলেন, কিয়ামতের কঠিন দিনে এক ব্যক্তির বিচার শেষে দেখা যাবে মাত্র একটি নেকির জন্য সে জাহান্নামি ঘোষণা হয়ে যাচ্ছে। দয়াময় আল্লাহ দয়া করে তাকে আবারও একটি সুযোগ দেবেন। বলবেন, ও বান্দা আমার! একটি নেকির অভাবে তুমি জাহান্নামে চলে যাবে আমার সহ্য হবে না। দুনিয়ায় তুমি তো অনেক মানুষকে খুশি করতে গিয়ে পাপের বোঝা ভারী করেছ, এখন যাও, তাদের কারও কাছ থেকে একটি নেকি পাওয়া যায় কি না দেখো। যদি একটি নেকির ব্যবস্থা করতে পার তাহলে তোমার ঠিকানা জাহান্নামের বদলে জান্নাতে ফয়সালা করা হবে।
এমন সুযোগ পেয়ে লোকটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাবে। সে বলবে, দুনিয়ায় এত এত মানুষের উপকার করেছি, সবাই যদি একটি করে নেকি দেয় তাহলে আজ আমার নেকির পরিমাণই অতিরিক্ত আরও এক শ হয়ে যাবে। এই ভাবতে ভাবতে সে প্রথমে স্ত্রীর কাছে যাবে। ওগো প্রিয়তমা! দুনিয়ায় আমি যত অবৈধ উপার্জন করেছি, বড় অংশই তোমার পেছনে ব্যয় করেছি। আমি তো শুধু ভেজিটেবল বিস্কুট আর করলার জুস খেয়েছি, শক্ত বিছানায় ঘুমিয়েছি, সকালে উঠেই দৌড়েছি হার্ট ভালো রাখতে। সব আরাম আয়েশ তো তুমিই করেছ। আজকের কঠিন দিনে তুমি আমাকে একটি, মাত্র একটি নেকি দাও। একটি নেকি পেলেই আমি জাহান্নামি থেকে জান্নাতি হয়ে যাব। স্বামীর কাকুতি মিনতি শুনে স্ত্রী বলবে, ওগো! তুমি হারাম কামাই করেছ, সেটা তোমার অপরাধ। আমরা তো বলিনি আমাদের হারাম কামাই করে খাওয়াও। আজকের কঠিন দিনে একটি নেকিই জান্নাত জাহান্নামের পার্থক্য করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি তোমাকে এক তিল পরিমাণ নেকিও দিতে পারব না। স্ত্রীর কাছে ব্যর্থ হয়ে লোকটি যাবে আদরের সন্তানের কাছে, প্রিয় মায়ের কাছে, বাবার কাছে, বন্ধুর কাছে, ভাইয়ের কাছে, বোনের কাছে। সবাই তাকে নেকি দিতে অস্বীকার করবে। তাড়িয়ে দেবে দূর দূর করে। তখন সে বুঝতে পারবে যাদের জন্য দুনিয়া আখিরাত নষ্ট করেছে তারা আসলে কেউই আপন ছিল না। এ কোনো কাল্পনিক বা বানানো গল্প নয়। স্বয়ং কোরআনে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মহাবিচার দিবসে কেউ কারও পাপের বোঝা বইবে না। কারও পাপের বোঝা ভারী হলে, সেই বোঝা বহন করার জন্য কাউকে ডাকলেও সে এগিয়ে আসবে না, এমনকি কোনো নিকটাত্মীয়ও না।’ (সুরা ফাতির, আয়াত ১৮) আল্লাহ আমাদের অন্তরে হিদায়েতের নুর ঢেলে দিন। আমিন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৩:৫৪ ● ২৯ বার পঠিত