রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-১৫ স্বপন চক্রবর্তী

Home Page » সাহিত্য » রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-১৫ স্বপন চক্রবর্তী
শুক্রবার ● ৯ জানুয়ারী ২০২৬


স্বপন কুমার চক্রবর্তী    আমার দেখা বই মেলা-২
বই মেলার কথা যেহেতু উঠেছে, তাই এর ঘটনা বহুল কিছু তথ্য আপনাদের জানাতে চাই। এসব তৈরী করা হয়েছে উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট, গুগলের সহায়তা নিয়ে। আর কিছু স্মৃতি নির্ভর তথ্য দিয়ে।
আগেই উল্লেখ করেছি যে, বই মেলার স্থানটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রসস্ত হওয়ায় অনেক আগে থেকেই তার বিকল্প ব্যবস্থার জন্য তাগিদ অনুভব করছিল সবাই। শেষে ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে এই মেলাটিকে রাস্তার অপর দিকে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। সে বছরে ২৯৯টি অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের মধ্যে ২৩২ জনকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ষ্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার আগে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ ছেড়ে রাস্তায় ছড়িয়ে যেতো মেলাটি। অনিয়ন্ত্রিত ছিল বলা যায়। দোয়েল চত্বর থেকে শাহবাগের মোর ,এমনকি টিএসসি পর্যন্ত বসে যেতো মেলা। মেলা মানে শুধুই যে বই ছিল তা নয়। চায়ের দোকান, ফুলের দোকান, ‍পুরাতন বই, পিঁয়াজোর দোকান, মিষ্টির দোকান, ফলের দোকান, ফুসকা, সিঙ্গাড়া, চানাচূড়, বুট ভাজা, বাদাম ভাজা, কদমা, কুড়মুড় ভাজা ইত্যাকার আরও কত কি। তখন যানবাহন চলতো বিকল্প পথে। কারণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতো। লোকে লোকারণ্য হয়ে যেতো। বিদেশীদেরকেও মাঝে মাঝে দেখা যেতো মেলায়। এমন উৎসব অনেকে কল্পনাও করতে পারতো না। কোলকাতায় বই মেলা হয়েছে, তবে বাংলাদেশের পরে এবং আমাদের বই মেলার সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে। দুই বাংলার বই ও সাহিত্য বিনিময় হয়ে আসছে অনেক দিন থেকে। সাহিত্যিকগণ দুই বাংলাতেই আলোচনায় অংশ গ্রহণ করে থাকেন। এমন কি সংস্কৃতি মন্ত্রী পর্যায়ের লোকগণও অংশ গ্রহণ থাকে। সেখানকার বহু গুণীজন এ মেলায় এসেছেন। তাঁদের কথাতেও সপ্রশংস ও উৎসাহ প্রবণ বক্তব্য থাকতো। এমন কি আমাদের দেশের একুশের চেতনাকে ধারণ করে পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নামে একটি দিবস স্বীকৃতি লাভ করে। এখন যা আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতি বছর পালিত হয়। ১৯৯৯সালে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত হয় ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র রক্ষা এবংমাতৃভাষার মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিশ্বব্যাপী এর চেতনাকে তুলে ধরা,, যা ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা থেকে জাত। ২০০০ সাল থেকে এটা আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হয়ে আসছে। কানাডা প্রবাসী বাঙালী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের উদ্যোগে এবং তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ”আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। আমরা এটাকে নিয়ে অবশ্যই গর্ববোধ করতে পারি।
বই মেলা চলাকালে প্রতিদিনই মেলাতে বিভিন্ন আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া মেলায় তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিনিয়ত নতুন মোড়ক উন্মোচিত হওয়া বইগুলোর নাম,তাদের লেখক ও প্রকাশকের নাম ঘোষণা করা হয়। বইগুলোর বিক্রয়ের ষ্টলের নামও বলে দেয়া হয়। দৈনিক প্রকাশিত বইয়ের পূর্ণ তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন রেডিও ও টেলিভিষণের চ্যানেল মেলার মিডিয়া স্পন্সর হয়, যা মেলার তাৎক্ষণিক খবরাখবর দর্শক-শ্রোতাগণ অবহিত হয়ে থাকেন। মেলার প্রবেশ দ্বারের পাশেই ষ্টল স্থাপন করে বিভিন্ন রক্ত সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহ করে থাকে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় মেলা নিয়ন্ত্রণের সব দায়িত্ব পালন করে থাকে। এলাকা ভিত্তিক ষ্টল বসে। যেমন, প্রকাশনী সমূহের ষ্টলগুলো প্রকাশক এলাকায়, প্রকাশক-বিক্রেতা এলাকা, শিশু কর্ণার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং লিটল ম্যাগাজিন ইত্যাদি এলাকায় বিভাজন করা থাকে। এছাড়া মেলা চত্বরকে ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম , ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ প্রমুখ ব্যক্তিদের নামে ভাগ করা হয়। এই মেলায় দেশের খ্যাতনামা সব প্রকাশনী, বই বিক্রেতা ছাড়াও দেশের বাইরের যেমন ভারত, রাশিয়া, জাপান,প্রভৃতি দেশের নানান প্রকাশনা সংস্থা তাঁদের বই ও প্রকাশনা নিয়ে অংশগ্রহন করে থাকেন। মেলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারেরও বহু রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ,যেমন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর, ইত্যাদি তাদের ষ্টল নিয়ে মেলায় অংশগ্রহন করেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও অংশ গ্রহন করে থাকে। ইদানিং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রকাশনা যেমন সিডি, ডিভিডি ইত্যাদিও স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও তাদের সেবার বিবরণসহ উপস্থিত হয়ে থাকেন। মেলাতে বেশ জনপ্রিয়তার সাথে স্থান করে নিয়েছে লিটল ম্যাগাজিনও। মেলার মিডিয়া সেন্টারে থাকে ইন্টারনেট ও ফ্যাক্স ব্যবহারের সুবিধা। আরও থাকে লেখক কর্ণার এবং তথ্যকেন্দ্র। মেলা প্রাঙ্গনটি থাকে পলিথিন ও ধুমপামুক্ত। মেলাতে বই বিক্রয়ের উপর ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া মেলায় শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ ও তথ্যের নিরাপত্তা বিধানের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স ব্যবস্থা থাকে। যারা বইয়ের কপিরাইট বা মেধাসত্ব আইন লঙ্ঘন করেন তাদের বিরুদ্ধে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোন ফি ধার্ষ নেই। ( চলবে ) বই মেলার একটি ছবি সংযুক্ত করেছি।

বই মেলায় আমি

বাংলাদেশ সময়: ২০:২৫:৩৫ ● ৪৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ