রবিবার ● ১১ জানুয়ারী ২০২৬
দিনাজপুরে পাট ও গম গবেষণায় গতি আনতে কৃষি সচিবের দিকনির্দেশনা
Home Page » প্রথমপাতা » দিনাজপুরে পাট ও গম গবেষণায় গতি আনতে কৃষি সচিবের দিকনির্দেশনা![]()
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেছেন, খাদ্যের বড় একটি জোগান দিচ্ছে দিনাজপুর। এই সাফল্য কৃষকের। এ দেশের কৃষকরাই সত্যিকার অর্থে কৃষি বুঝে, বিজ্ঞানীরা শুধু গবেষণা করেন। কৃষকরা উৎপাদন না করলে দেশে খাবারের জোগান দেওয়া সম্ভব হতো না। বিজ্ঞানীরা ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করছেন কৃষকদের জন্য। আর কৃষকরা সেসব ফসল কষ্ট করে উৎপাদন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করছেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের নশিপুরের পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত কৃষকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে তিনি নশিপুরের বাংলাদেশ পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের পাটের বীজ উৎপাদন ক্ষেত পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দিনাজপুর পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাট জাতীয় আশ, বীজ ফসলের উন্নতজাত ও উৎপাদন প্রযুক্তিবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত গম বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সব অনুষ্ঠানে জেলার সদর, কাহারোল, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, পাটের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ পাট আবাদ হয় সেই বীজের বড় অংশ ভারত থেকে নেওয়া আসা হয়। এজন্য বাংলাদেশে বীজের সক্ষমতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে নতুন নতুন পাটের জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি নিশ্চিত করতে জলাবদ্ধতা, চরাঞ্চলসহ সব অঞ্চলেই পাটের উৎপাদন বাড়াতে পরিবেশ সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। এটি হলে বাংলাদেশের উৎপাদিত পাট দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। আগামীতে পাট নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য ২৫ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাটকে আবারও অর্থকরী ফসল করতে কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। পাটের শুধু আশই নয়, বীজ উৎপাদন করেও কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। প্লাষ্টিকের ব্যবহার কমাতেও পাটের গুরুত্ব রয়েছে। এজন্য পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানানো হয়।
পাটের পাশাপাশি বাংলাদেশে গমের আবাদ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত ও এ রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। গম ক্ষেতে আগাছা দমন ব্যবস্থাপনাসহ ফলন বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য ফসল ব্যবস্থাপনার লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গমের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। ফলে দেশে গমের মানসম্মত বীজের সংকট তা নিরসনে ভূমিকা রাখছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণে গমের চাহিদা তা জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গমের আবাদ বৃদ্ধি করতে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সরকার কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে উন্নত জাত উদ্ভাবনে। এতে করে আগামীতে গম চাষে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান হবে এবং কৃষকরা গম আবাদ করে লাভবান হবেন। গমের উন্নত জাত নির্বাচন, বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনের কলা কৌশল, রোগ-বালাই ও আগাছা ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (বিডাব্লিউএমআরআই) ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গিস আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, বিডাব্লিউএমআরআই প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক ড. মো. আব্দুল হাকিম এবং অতিরিক্ত পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, দিনাজপুর পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মোস্তানছির বিল্লাহ, জেএফএ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৪৬:০২ ● ২৭ বার পঠিত