
ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী ২৭ বছর ধরে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ এবং নিকোলাস মাদুরোর অনুগত মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। এর বিনিময়ে তারা পেয়েছে অঢেল ক্ষমতা, রাজনৈতিক বিভিন্ন পদ। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ অনেক কর্মকর্তা হয়েছেন মন্ত্রী, গভর্নর এবং রাষ্ট্রদূত। কিন্তু গত ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে যেভাবে অতর্কিতে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে, তাতে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন অভিযানের পর নতুন বাস্তবতায় ক্যারিবীয় তেলসৃমদ্ধ দেশটির শাসন ক্ষমতা নতুন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতেই থাকুক বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকে, দেশ পরিচালনা করতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর ভেতরে এমন একটি চুক্তিতে আসার চাপ রয়েছে।
গতকাল শনিবার আলজাজিরাতে প্রকাশিত রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক কার্লোস এদুয়ার্দো পিনার লেখা এক বিশ্লেষণে ভেনেজুয়েলার বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব এবং কেন তারা ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী বর্তমানে একটি কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। এক নতুন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব চুক্তি মেনে নেওয়া এবং আপস করে নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখা। অথবা সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়া। অর্থাৎ মার্কিন হামলা এবং সামরিক শক্তি হারানোর ঝুঁকি নিয়ে মাদুরোর আদর্শে অনড় থাকা।
একটি কৌতূহলজনক বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে নয় বরং ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে। এর প্রধান কারণ সামরিক বাহিনীর মধ্যে রদ্রিগেজের গ্রহণযোগ্যতা মাচাদোর চেয়ে অনেক বেশি। তাই ওয়াশিংটন মনে করে, রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা এড়াতে সামরিক বাহিনীর সমর্থন পাওয়া রদ্রিগেজের পক্ষে সহজ হবে।
একইভাবে ভেনেজুয়েলায় ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে সরকার পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা সেনাবাহিনী, সরকারি দল এবং আধাসামরিক বাহিনী মিলিয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছিল। এই কাঠামোটি ভাঙা যে কোনো নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর, যদি তার জন্য সামরিক বাহিনী সহযোগিতা না করে।
আরও একটি ট্যাঙ্কার আটক
ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামোর পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের প্রতি নজরদারি রাখছে ওয়াশিংটন। এ অবস্থায় ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার আরেকটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা তেল ট্যাঙ্কারগুলো একে একে আটক করার পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছিল। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক সাউদার্ন কমান্ড বলেছে, তাদের বাহিনী কোনো বাধা ছাড়াই ‘ওলিনা’ নামে ট্যাঙ্কারটিকে আটক করেছে। তবে কেন ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল তা বলা হয়নি।
তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলায় তেলের উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন শীর্ষ তেল প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেনেজুয়েলায় গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে দেশটির তেলশিল্পকে আবার সচল করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আপনারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়।’