
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সমর্থিত অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টাকে সফলভাবে নস্যাৎ করার দাবি করেছে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইরানজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ গোপন তথ্য পাওয়ার পর আইআরজিসি সন্দেহভাজন কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসী হুমকির বিষয়ে বড়সড় তদন্ত চালায়, যার ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রেপ্তার ও অভিযান সম্পন্ন হয়।
আইআরজিসির তথ্যমতে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরে তারা দাঙ্গাকারী এবং তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে। যাদের সঙ্গে সরাসরি মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সংযোগ ছিল। এছাড়া দেশের নয়টি প্রদেশে রাজপথ দখলের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা প্রতিবিপ্লবী দলগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। সীমান্ত এলাকায় দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনাকারী একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মূল নেতাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি মোসাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৩১ জন ভিন্নমতাবলম্বীকেও আটক করার কথা জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
গোয়েন্দা সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান অস্থিতিশীলতা তৈরির মূল লক্ষ্য ব্যর্থ হলেও শত্রুরা এখনও আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং জ্ঞানীয় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, তারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া শত্রুতামূলক পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিজেদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই পড়বে।
এদিকে, বুধবার আইআরজিসির স্থল শাখার প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরণের ভুল হিসাব-নিকাশের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি চলমান অস্থিরতাকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নির্দেশনায় পরিচালিত উগ্রবাদী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। জেনারেল পাকপুর এই রক্তপাতের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করে বলেছেন, যথাযথ সময়ে এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।