
মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় গ্যাং বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলায় পুলিশের অন্তত আট কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘর্ষে এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্যও নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি ও এর আশপাশের এলাকায় একযোগে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার গ্যাং নেতাদের (সন্ত্রাসী গোষ্ঠী) কম নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তর করতে অস্বীকৃতি জানানোর প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর একদিন আগে গুয়াতেমালার তিনটি কারাগারে গ্যাং-সংশ্লিষ্ট বন্দিরা মোট ৪৬ জনকে জিম্মি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পুলিশ একটি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।
কারাগারে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কর্তব্যরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের হাতে আট কর্মকর্তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গুয়াতেমালা রাষ্ট্র গ্যাং অপরাধের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার জবাব হিসেবেই এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো রবিবার জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এখনই কঠোর ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সোমবার সারা দেশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে গুয়াতেমালায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশজুড়ে গ্যাং সহিংসতা ও কারাগারকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।