মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬

যাকাত কনফারেন্স ২০২৬: মানবিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন দিগন্ত

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » যাকাত কনফারেন্স ২০২৬: মানবিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন দিগন্ত
মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬


দারিদ্র্য বিমোচনে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের যাকাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রতি বছরের মতো এ বছরও দারিদ্র্য বিমোচনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এবং আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে

সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে যাকাত কনফারেন্স ২০২৬।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার, সরকারি একাধিক উপদেষ্টা, সচিব ও কর্মকর্তা, সমাজসেবীরা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ডাক্তার ও মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সকল দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই কনফারেন্সটি তিনটি সেশনে আয়োজিত হয়। তিনটি সেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম, পরিকল্পনা কমিশন ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ইসলামিক স্কলার ও সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ড্যাফোডিলের পরিচালক শায়খ প্রফেসর ড. মো: মোখতার আহমাদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক শায়খ প্রফেসর ড. মো: ইমাম হুসাইন, শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি মাসুম বিল্লাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ বি এম সাদেকুর রহমান, সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক কালাম উদ্দিন বিশ্বাস, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: দাউদ মিয়া (এনডিসি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসেফিকের ভিসি অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: শামসুল আলম, কেজিএসএম গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোয়ার হোসেন মইনুল, ফ্রেবিক লাগবে লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, ডে টেম্পেটে লিমিটেড আইটি সলিউশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কামরুল হাসান, বিটিআই লিমিটেডের ডিরেক্টর ফাইজুল রহমান খান।

এছাড়াও বিশেষ ইসলামিক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস ড. মুফতী ওয়ালীয়ুর রহমান খান, জামিয়া মাহমুদিয়ার প্রধান মুফতি শায়খ রেজাউল করিম আবরার, শায়খ মুফতি আহসানুল ইসলাম (সিএসএএ), শায়খ মুফতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ নবিসহ প্রমুখ।

যাকাত কনফারেন্স ২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক উন্নয়নে যাকাতের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। একইসাথে যাকাতের ফরজিয়ত ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যাকাতের শুদ্ধ অনুশীলন ও প্রসার, যাকাতের হিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ, আধুনিক প্রেক্ষাপটে যাকাতের প্রয়োগ, যাকাত বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান বলেন, যাকাত শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়; এটি দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গরিব-ধনীর ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাকাত মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে। তিনি আরো বলেন, যাকাতের অর্থ যদি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হয়, তবে তা সমাজে কার্যকরী পরিবর্তন আনতে পারে। এ জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে যাকাত প্রদান করে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামিক স্কলার শায়খ মুফতি আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘যাকাত শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। শরিয়া সম্মতভাবে এবং সঠিক খাতে যাকাত বণ্টন করা হলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।’

তিনি ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও শরিয়া বোর্ডভিত্তিক যাকাত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের শরিয়া বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যাকাত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তারা যেন তাদের যাকাত মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রদান করেন, যাতে স্বচ্ছ ও শরিয়া সম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা যায়।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কাজ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টির জন্য। মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতিনিয়ত যাকাত তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজের যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি সঠিক নিয়মে ও দায়িত্বশীলতার সাথে যাকাত আদায় করেন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য একদিন অবশ্যই দূর হবে ইনশাআল্লাহ।’

আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, মিনারাত ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং রেডি গ্লোবাল সলিউশনসহ অনেকেই এ কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশ ও ২০২৩ সাল থেকে দেশের বাহিরে মানবিক সেবার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে গাজা ও ২০২৫ সালে সুদানের সংকটের সময়ে তারা দ্রুত এবং জরুরি সহায়তা-খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী-পৌঁছে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের ভেতরে দারিদ্র্য নিরসনে তাদের সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার স্কিলসহ নানামুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প ‘যাকাত স্বাবলম্বী’-এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এতিম শিশু এবং প্রবীণদের জন্য নির্মাণাধীন শেল্টার হোম কমপ্লেক্স প্রকল্পটি ভবিষ্যতের প্রতি মাস্তুলের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মেহমানখানায় দৈনিক বিনামূল্যে খাবার বিতরণ থেকে শুরু উল্লেখ্য,সরকারি নিবন্ধিত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫২:৩০ ● ১৮ বার পঠিত