
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার।
গতকাল সোমবার জাতীয় পুলিশপ্রধান আহমাদ-রেজা রাদান বলেন, ‘বিভ্রান্ত হয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তি পাবেন।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাদান বলেন, ‘যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, তারা বিভ্রান্ত ব্যক্তি, শত্রু সেনা নয়। ইসলামিক রিপাবলিকের ব্যবস্থায় তাদের সঙ্গে অবশ্যই নমনীয় আচরণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের জন্য সর্বোচ্চ তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে পরে দেশকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শত্রুদের উসকানিতে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, যেসব অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার চাপ থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কার্যক্রমের কথা জানিয়েছেন দেশটির নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের প্রধানরা। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতি তারা বলেন, জীবিকা ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে দিনের চব্বিশ ঘণ্টাই তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংখ্যা ২০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।