সোমবার ● ১৬ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি সচলে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

Home Page » বিশ্ব » হরমুজ প্রণালি সচলে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প
সোমবার ● ১৬ মার্চ ২০২৬


হরমুজ প্রণালি সচলে চীনের সহায়তা চাইলেন ট্রাম্প

ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে এই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিস্ময়ের বিষয়, তিনি এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীনের কাছেও হাত পেতেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যসহ যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো। আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ১০০ ভাগ ধ্বংস করে দিলেও তারা ড্রোন বা মাইন ব্যবহার করে এই জলপথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।’ ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি চীনকেও এই অভিযানে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই আহ্বানে লন্ডনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এখন বিশ্বের জন্য ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার’। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা মিত্রদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি এবং সব ধরনের বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তবে, সাবেক ব্রিটিশ নৌ-কমান্ডার নীল মরিসেত্তি সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন ইতোমধ্যেই ভূমধ্যসাগরের দিকে রওনা হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ট্রাম্পের এই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার কথা জানালেও জাপান আইনি জটিলতার ইঙ্গিত দিয়েছে। জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতিবিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, বর্তমান আইনে এই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো টোকিওর জন্য বেশ কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে ইরান স্তব্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু তেহরান একে বানোয়াট মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। স্থলপথে ড্রোন বা মাইন হামলার হুমকি বজায় থাকায় হরমুজ প্রণালি কবে নাগাদ উন্মুক্ত হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৪:০২ ● ১৫ বার পঠিত