রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ

Home Page » জাতীয় » রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ
বুধবার ● ১৫ এপ্রিল ২০২৬


রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ

নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে রাজধানীতে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।আজ মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই সংগীত, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় মানুষ।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় আজকের আয়োজন। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩–কে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। বর্ষবরণের এ বর্ণিল আয়োজন শেষ হয় ৮টা ১৫ মিনিটে।

জানা গেছে, এ আয়োজনে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে আটটি সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠান সাজানো হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে। আরও ছিল লোকগান।

প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রমনার বটমূল এলাকা। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ভোরের সূর্যের নবীন আলোর সঙ্গেই ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে উৎসবে মেতে উঠেছে সারাদেশ। পুরনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি আর শোককে বিদায় জানিয়ে ঋতুচক্রের এই নবায়ন বয়ে এনেছে নতুন আশার আলো। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখ আজ পরিণত হয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মোহনায়।

বাংলাদেশ সময়: ১০:১৯:১৬ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ