মঙ্গলবার ● ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Home Page » প্রথমপাতা » যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
মঙ্গলবার ● ২৮ এপ্রিল ২০২৬


 যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ তদন্তে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসএফ)-এর দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে গ্রেফতারকৃত লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বৃষ্টি ছাতা মাথায় দিয়ে ইউএসএফ ক্যাম্পাস ত্যাগ করার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। সেদিন বিকেল ৫টায় এক বান্ধবীর সঙ্গে তার দেখা করার কথা থাকলেও এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নিখোঁজ হন লিমন। তাদের খোঁজ না পেয়ে লিমনের বন্ধু ওমর হোসাইন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

তদন্তে লিমনের মোবাইল ফোনের সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিকেলে সেটি ক্যাম্পাস এলাকায় থাকলেও রাতে এর অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে Courtney Campbell Causeway এবং Sand Key Park এলাকায় চলে যায়। একই সময়ে হিশামের ব্যবহৃত হুন্দাই জেনেসিস গাড়িটিও ওই এলাকাগুলোতে চলাচল করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের হাতে ব্যান্ডেজ দেখা গেলে তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুল কেটেছেন। প্রথমে তিনি জানান, মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে তিনি ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় গিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে লিমনের ফোনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করা হলে তিনি বয়ান পরিবর্তন করে বলেন, লিমন ও বৃষ্টি তার গাড়িতে ছিলেন এবং তিনি তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে দেন।

তদন্তকারীরা হিশামের ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করার চিহ্ন পান। ডাস্টবিনে উদ্ধার হওয়া একটি রসিদ থেকে জানা যায়, ১৬ এপ্রিল রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে ডোরড্যাশের মাধ্যমে লাইজল ওয়াইপস, বডি ওয়াশ ও ফিব্রিজসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী অর্ডার করা হয়েছিল।

এছাড়া ট্র্যাশ কম্প্যাক্টর থেকে রক্তমাখা কাপড়, মোজা এবং রক্তযুক্ত রুপালি ডাক্ট টেপ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ লিমনের ফ্ল্যাট থেকে রান্নাঘরের ফ্লোর ম্যাট, তোয়ালে ও কিছু তৈজসপত্রও পরে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফরেনসিক তদন্তে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে হিশামের শোবার ঘর পর্যন্ত রক্তের ছাপ পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে তার শোবার ঘরে দুটি মানুষের আকৃতির চিহ্ন শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিছানার নিচে লুকানো অবস্থায় ট্র্যাশ ব্যাগ ও ডাক্ট টেপও উদ্ধার করা হয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় হিশামের মোবাইল ফোনের রেকর্ড থেকে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে, ১৩ এপ্রিল, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ChatGPT-এ অনুসন্ধান করেছিলেন—“কীভাবে একজন মানুষকে ডাস্টবিনে ফেলা যায়।” এমনকি নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আবার জানতে চান, “নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক বলতে কী বোঝায়।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, হিশাম অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত করেছেন এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আলামত গোপনের চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। বহুল আলোচিত এই জোড়া অন্তর্ধান মামলার বিচারিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৪:১৫ ● ১০ বার পঠিত