সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ছে, চাপে পড়বেন কোটি মানুষ

Home Page » জাতীয় » সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ছে, চাপে পড়বেন কোটি মানুষ
বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬


দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আসছে নতুন বেতনকাঠামো। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নবম জাতীয় বেতন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করবে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
তবে যেখানে সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ছে, সেখানে বেসরকারি খাতের কোটি কোটি কর্মীর বেতনকাঠামোয় আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না। ফলে দুই খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধান আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

নতুন পে স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে — অর্থাৎ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে — প্রথম দুই বছরে মূল বেতন ৫০ শতাংশ করে সমন্বয়, তৃতীয় বছরে বাড়তি ভাতা ও সুবিধা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ সরকারি খাতে। বাকি ৯৩ শতাংশের বেশি মানুষ বেসরকারি, করপোরেট ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। অথচ গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৪ শতাংশ, আর জাতীয় গড় মজুরি হার ছিল মাত্র ৮.১৬ শতাংশ — অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বাড়ছে কম।
বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, “সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক হলেও নতুন পে স্কেলের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ বর্তমান অর্থনীতিতে বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে। এই বিপুল অর্থ বাজারে এলে মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বেসরকারি চাকরিজীবীরা এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সামনে তাদের টিকে থাকার লড়াই আরও কঠিন হবে।

ইতিহাস বলছে, ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের পরেও বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। এবারও একই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলেন, “দুই খাতের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার এই ফারাক সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। অবিলম্বে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর তদারকি এবং বেসরকারি খাতে করপোরেট কর যৌক্তিকীকরণসহ বিশেষ নীতি সহায়তা দরকার। তা না হলে পে স্কেলের প্রভাবে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির আগুনে সাধারণ বেসরকারি চাকরিজীবীরা পিষ্ট হবেন।”
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “প্রায় ২০ লাখ সরকারি কর্মী সুবিধা পেলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হবে দেশের প্রায় ১৮ কোটি সাধারণ মানুষকে। ব্যবসায়ীরা এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পণ্যের দাম বাড়াবেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।”

সরকারি কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন বেসরকারি খাতের কোটি মানুষের জীবনকে আরও চাপের মধ্যে না ফেলে — এটিই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৯:২১ ● ৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ