রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬
রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-৩৪ স্বপন চক্রবর্তী
Home Page » সাহিত্য » রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-৩৪ স্বপন চক্রবর্তী
জ্ঞান পিপাসু ও বই প্রেমী মানুষের গল্প-৩
( পূর্বে প্রকাশিতের পর )
সামাজিক সমস্যা, প্রকৃতি, ধর্ম, এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাই তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য। এক সময় বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। “ভাব” “ সুরত” “ আচিয়া” “ বাছার” “মহাসতী উর্মিলা” ”তারা মন্দোদরী” ‘শিরি সামালাই’ ‘প্রেম পইচান’ ‘বীর সুরেন্দ্র সাই’ ’শান্ত কবি বিমাভাই’ ইত্যাকার ২০টি মহাকাব্য তাঁর রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে “ উড়িষ্যা সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার” লাভ করেছেন।
তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। তাঁর লেখার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে তিনি বলেন, “ আমি প্রথম কবি বিনোদ নায়কের কবিতা পড়েছিলাম। তার কবিতা “ গ্রাম পাঠ” আমাকে ভীষণ আকৃষ্ট করে। কিভাবে কবিতা নির্মাণ করতে হয় এ কবিতা পড়েই আমি ধারণা লাভ করি। তার থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার প্রথম কবিতা “ ধড়ো বারগাচ” রচনা করি। নায়কের রচনাগুলোর কাব্যিক উৎকর্ষ অনুকরণীয় । এখনও অনুপ্রেরণার জন্য তার কবিতার কাছে আমি বারবার ফিরে যাই। তাকে ছাড়াও এমন অনেকে আছেন, যারা আমার লেখায় প্রভাব ফেলেছেন। বিশেষত , গঙ্গাধর মেহেরের প্রকৃতির বর্ণনার ধরন, রাধানাথ রায়ের কাব্যিক কৌশল প্রয়োগ এবং কবিতায় অলঙ্কারের ব্যবহার আমি অনুসরণ করার চেষ্টা করি” ।
তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে সামাজিক সমস্যা, প্রকৃতি, ধর্ম, এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো দৈনন্দিন জীবনের ঘটে যাওয়া বিষয় সমূহ ।
ওড়িষ্যার সরকার হলধর নাগের নামে একটি সম্বলপুরী ভাষা ও সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অধ্যাপক জয়শঙ্কর কর্তৃক সম্পাদিত তাঁর কিছু বই প্রকাশিত হলে সেগুলোর জন্য ২০২২ সালের নভেম্বরে ডক্টর রাম মনোহর ত্রিপাঠী লোক সেবা সম্মান পুরষ্কার তিনি লাভ করেন।
তথ্যচিত্র পরিচালক ভারতবালা এক হাজারটি চলচ্চিত্র নির্মানের লক্ষে গীতিকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক গুলজারের কন্ঠে নাগের অপ্রকাশিত গল্পগুলো তুলে ধরবেন। এই স্বল্পদৈর্ঘের চলচ্চিত্র বর্ণিত হয় এভাবে যে, “ আমি তোমাকে একটি চিঠি লিখছি, হলধর, সম্বলপুরের মাটির সন্তান, এই আদিবাসী কবি। তাঁর ভাষা সম্বলপুরী।
এই সিরিজের অংশ হিসেবে , গুলজার প্রায় আট মিনিট ব্যাপী দীর্ঘ গল্পে “ ভার্চুয়াল ভারত” –এ নাগের একটি সারসংক্ষেপ বর্ণনা করেন- যা ভারত সম্পর্কে ছোট গল্পের একটি সংকলন। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবার পর , গুলজার কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে নাগকে ৫০,০০০/ হাজার টাকা পাঠিয়ে ছিলেন।
অসংখ্য কবিতা, গল্প ও প্রায় ২০টি কাব্যগ্রন্থ তিনি সৃজন করেছেন। কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ তাঁর জিভের ডগায় রয়েছে। অনর্গল তিনি সেগুলো আবৃত্তি করে মানুষকে আনন্দ দেন। তাঁর কবিতার মানও বেশ উন্নত। এর কারণ তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত সুন্দর অলংকরণ ও উপমার ব্যবহার। এখানে একটি কবিতার সামান্য উল্লেখ করতে চাই, যা কিছুটা ধারনা দিবে। কোশলি ভাষায় লিখিত কবিতাটি অনুবাদ করেছেন জনৈক কৌশিক ভাদুড়ি। ফলে মূল রচনার উৎকৃষ্টতা হয়তো ততোখানি বহাল থাকেনি। তবুও অসাধারণ।
কোকিল-
লুকিয়ে লুকিয়ে গান গাস রে কোকিল, আম বাগানের ঝোপে/ ( যেন) টুপটাপ পড়ে চাক ভেঙে রস, তাই শুনে পেট ভরে। পাখির ভেতর তুই রানি হোস, কন্ঠ বেড়ালের ঘন্টা/ তোর বুলিটা নিখাদ মধুর, গলে মিশে যায় মনটায়। কাকের বাসাতে ডিম পেড়ে রেখে, নছড়ামি তোর ঘোর/ ঝরা হাতপায়ে ট্যাং ট্যাং ঘোরা, নেই সন্তান স্নেহ তোর। শুনেছি মালিকা যখন কৃষ্ণ গেল কংসবধ দেখি, তার মা যশোদা শরণে কেশব, কেঁদেছিল তুই সাক্ষী। ( চলবে )
( তথ্যঋণ:- বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, সংবাদ ইন্টারভিউ,ইন্টারনেট ) 
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৮:০৫ ● ১৯২ বার পঠিত