বঙ্গনিউজ: ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে জানানো হয়েছে যে, এখন আর ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন না বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। বুধবার দুপুরে দলের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে সরকারের এই সময়ের ২৬টি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়। শিল্পকারখানায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করাকে এই মেয়াদের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছে দলটি।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে এই মূল্যায়নে। বাংলাদেশের পাসপোর্টে পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার পাশাপাশি আকাশসীমা নজরদারিতে অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে তিনটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার সুফল পাবে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ। এছাড়া বিমান বহর সম্প্রসারণে ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি, ১০টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া ৬০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩৭টির বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আদায়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জনকল্যাণমূলক কাজের আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া এবং ৫৩ হাজারের বেশি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে আহত ১৫২ জন যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৬টি খাল খনন, ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের মাসিক ভাতা এবং প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেনে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ এবং ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সফলতার তালিকায় স্থান পেয়েছে।