মঙ্গলবার ● ২৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি
Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি
বঙ্গনিউজ: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পতন হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ৪২৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতিতে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে।
শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, বিদেশি সহায়তার প্রকৃত অর্থছাড়েও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মোট বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ৪৫৮ কোটি ডলার। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৫৬১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে অর্থছাড় কমেছে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থ ছাড় প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশকে ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ মে প্রকাশিত ইআরডির আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ৪২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার অর্থ ছাড় করেছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাস শেষে মোট অর্থছাড় বেড়ে ৪৫৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় কমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া দেশের উন্নয়ন অর্থায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সহায়তা ব্যবস্থাপনায় অধিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪০:১৩ ● ১২ বার পঠিত