
বজ্রপাতের শঙ্কায় দীর্ঘ বিরতির পর আবার শুরু হয়েছিল ম্যাচ। আর সেই বিরতির পর মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতি নতুন করে জানান দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে বিলম্বিত দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই ফরাসি তারকা।
সোমবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ফ্রান্সের হয়ে দুটি গোল করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথমবার জালের দেখা পাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এতে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় চারটিতে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোল ১৬-তে পৌঁছায়, যা তাকে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতাদের কাতারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ধারাবাহিকতা তাকে শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েই এগিয়ে রাখছে না, বরং সর্বকালের রেকর্ড ভাঙার আলোচনাতেও সামনে নিয়ে এসেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। এমবাপ্পের নেওয়া একটি শট ইরাকের রক্ষণভাগ পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে না পারলে বল পেয়ে যান মাইকেল অলিসে। তার নিখুঁত পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করে দলকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে প্রথমার্ধ শেষে বজ্রপাতের শঙ্কায় ম্যাচে দীর্ঘ বিরতি পড়ে। বিরতির পর খেলা শুরু হলে ফ্রান্স আবারও আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন। এরপর ম্যাচের বাকি সময় ফ্রান্স বলের দখল ও ছন্দ—দুই দিকেই আধিপত্য ধরে রাখে।
এর আগে সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ফরাসি অধিনায়ক। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলরেকর্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সের হয়ে শততম ম্যাচে এমবাপ্পের এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে সমর্থকদের প্রত্যাশা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব সামনে রেখে তিনি যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে শুধু ফ্রান্সের শিরোপা স্বপ্নই নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতাতেও আরও বড় ইতিহাস লেখা হতে পারে।