বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরান-ওমানের
Home Page » প্রথমপাতা » হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরান-ওমানের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে ‘সেবা মাশুল’ বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও এ বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের আলোচনাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি যৌথ কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সেবা মাশুল আদায়ের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, ওমান চাইছে শুল্ক প্রদান স্বেচ্ছামূলক বা ঐচ্ছিক হোক। অন্যদিকে ইরান এটিকে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মাস্কাটের মতে, এই অর্থ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে, যা বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলেও তেহরান একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এমন অবস্থানের কারণেই ওমান একটি সমঝোতামূলক সমাধান খুঁজছে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য এই উদ্যোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এটি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ওমানের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
বাংলাদেশ সময়: ৯:৩০:০২ ● ১৮ বার পঠিত