বাজেট অধিবেশনে এমপিদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কারণ দর্শানোর নির্দেশ

Home Page » জাতীয় » বাজেট অধিবেশনে এমপিদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কারণ দর্শানোর নির্দেশ
বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন সকালের অধিবেশনে সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। অনুপস্থিত এমপিদের কারণ দর্শাতে হুইপদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট হুইপ ও অনুপস্থিত সংসদ সদস্যদের ডেকে পাঠান। বিষয়টি একাধিক হুইপ ও সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, বাজেট পাসের দিনের অধিবেশন সকাল ১১টায় শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী সকাল পৌনে ১০টার মধ্যেই সংসদ ভবনে উপস্থিত হন। এর আগেই দলীয় সংসদ সদস্যদের অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকজন এমপিকে অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

একজন হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী অধিবেশন চলাকালে সরকারদলীয় এমপিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন তাঁদের কারণ জানতে চান। পরে তিনি নির্দেশ দেন, সংশ্লিষ্ট এমপিদের কারণ দর্শাতে হবে এবং অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য বলেন, “সকালের অধিবেশনে সময়মতো উপস্থিত না থাকায় প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। এখন কী হবে, সেটাই দেখার বিষয়।”

এ সময় পাশেই থাকা আরেক সংসদ সদস্য রসিকতা করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তো সহজে দেখা হয় না। অন্তত এই অজুহাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো।”

এদিকে বাজেট অধিবেশন-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজও বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ব্যয় সংকোচনের নীতির অংশ হিসেবে এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, বাজেট অধিবেশনের পুরো সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণ, আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিরতির সময়ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বাজেট পাসের দিন সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। তবে এবার সরকারি ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবে সেই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি আপ্যায়ন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে মঙ্গলবার সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেটটি পাস হয়।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪১:২১ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ